Print

সারাদিন

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিতে ধারাবাহিক সংলাপের বিকল্প নেই: শিক্ষা উপদেষ্টা

প্রকাশিত: ৪:২৪ অপরাহন, জানুয়রী ২৪, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে সরাসরি ও ধারাবাহিক সংলাপের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশনের (বিএনসিইউ) চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। তিনি বলেন, সংবেদনশীল প্রশাসন, অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নীতিনির্ধারণের মাধ্যমেই বৈষম্য কমানো সম্ভব।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. রফিকুল আবরার বলেন, শিক্ষা শুধু পাঠ্যপুস্তকনির্ভর জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি নাগরিকত্ব, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গঠনের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। তরুণদের চিন্তা-ভাবনা, সৃজনশীলতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চর্চার কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে।

তিনি বলেন, তরুণদের অংশগ্রহণ যেন কেবল প্রতীকী না হয়, বরং বাস্তব ও কার্যকর হয়। সক্রিয় অংশগ্রহণ, মতামত ও সম্পৃক্ততা ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। ‘আমরা টোকেনিজম চাই না, চাই অ্যাকটিভ পার্টিসিপেশন ও এনগেজমেন্ট,’-বলেন তিনি।

রাষ্ট্র পরিচালনায় তরুণদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জনগণের কল্যাণের অর্থেই রাষ্ট্র পরিচালিত হয় এবং সেই জনগণের বড় অংশই তরুণ সমাজ। নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তরুণদের চিন্তাভাবনা, আকাঙ্ক্ষা ও অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একসময় নাগরিক অধিকার হারানোর শঙ্কা থাকলেও তরুণ সমাজই পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু পাঠ্য শিক্ষার জায়গা নয়। শিক্ষার্থীদের ভেতরে থাকা সুপ্ত প্রতিভা, আগ্রহ ও মেধা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে। সংগঠন, ক্লাব ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। এজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহায়ক পরিবেশ ও পর্যাপ্ত রিসোর্স নিশ্চিত করতে হবে।

Nagad
Nagad

জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব ও সুযোগ নিশ্চিতের বিষয়ে ড. রফিকুল আবরার বলেন, সংবেদনশীল প্রশাসন ও ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধান সম্ভব। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সমাজে বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সংস্কৃতি, গান, নাচ কিংবা পরিচয়ের কারণে কাউকে হেয় করা অনুচিত। একমাত্রিক চিন্তাভাবনার বিরুদ্ধে তরুণদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

আসন্ন নির্বাচন ও নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগত পরিবর্তনে তরুণদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে হবে। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রীয় কাঠামোতেও তরুণদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে, কারণ এসব প্রতিষ্ঠান জনগণের করের টাকায় পরিচালিত এবং জনগণই এর প্রকৃত মালিক।

বাংলাদেশ ইউনেস্কো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা সচিব ও বিএনসিইউর সেক্রেটারি জেনারেল রেহানা পারভীন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কো বাংলাদেশের হেড অব অফিস সুজান ভাইজ।