Print

সারাদিন

কোনো কারাবন্দি যেন বৈষম্যের শিকার না হয়: গাজীপুরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রকাশিত: ২:১৮ অপরাহন, জানুয়রী ২৭, ২০২৬

গাজীপুর সংবাদদাতা:

কারাবন্দিদের নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, কোনো বন্দি যেন বৈষম্যের শিকার না হয়, সে বিষয়ে কারা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) গাজীপুরের কাশিমপুর কারা ক্যাম্পাসে অবস্থিত কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্যারেড গ্রাউন্ডে ৬৩তম ব্যাচ মহিলা কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কারা প্রশাসন পরিচালনায় নিরাপত্তা ও মানবাধিকার একে অপরের পরিপূরক। কারাগারে বন্দিদের মৌলিক মানবাধিকার সংরক্ষণ করে সংশোধিত নাগরিক হিসেবে সমাজে ফিরিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। বন্দিদের প্রতি মানবিক আচরণ, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা, বৈষম্যহীনতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা শুধু আইনগত বাধ্যবাধকতা নয়, এটি রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানেরও প্রতিফলন।

তিনি আরও বলেন, কারাগার একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং এটি দেশের ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অপরাধ দমন, অপরাধীর সংশোধন এবং সামাজিক পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে কারা প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক কারা প্রশাসন গড়ে তুলতে প্রশিক্ষিত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন কারারক্ষীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশপ্রেমের মহান দায়িত্বকে হৃদয়ে ধারণ করে নবীন প্রশিক্ষণার্থীরা সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্রের এই দায়িত্ব পালনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এ বিষয়ে তিনি আশাবাদী।

দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। এটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই করে না, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে দুর্বল করে এবং জনগণের আস্থা নষ্ট করে। কোনো কারা সদস্য যদি ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ কিংবা রাজনৈতিক সুবিধার অংশ হয়ে কাজ করে, তবে সে শুধু আইন ভাঙে না, রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও দুর্বল করে।

Nagad
Nagad

তিনি বলেন, কারা সদস্যরা কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয়; তারা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী। তাই জনকল্যাণই তাদের একমাত্র ব্রত হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষণে কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্যের জন্য সেরা মহিলা কারারক্ষীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মহিলা কারারক্ষীরা বিভিন্ন শারীরিক কসরত ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, ৬৩তম ব্যাচের মহিলা কারারক্ষীদের মধ্যে ড্রিলে প্রথম স্থান অর্জন করেন লিজা খাতুন, পিটি-তে প্রথম হন মোছা. রায়হানা আক্তার সুবর্ণা, আন আর্মড কমব্যাটে প্রথম স্থান অধিকার করেন জুথি পারভীন এবং ফায়ারিংয়ে প্রথম হন মানসুরা। একাডেমিসহ সর্ববিষয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন মোছা. রায়হানা আক্তার সুবর্ণা।