Print

সারাদিন

৯ মাসের জন্য সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ

প্রকাশিত: ২:১৭ পূর্বাহ্, ফেব্রুয়ার ১, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে আগামী রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে টানা ৯ মাসের জন্য পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ থাকছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) শেষ হচ্ছে চলতি মৌসুমের পর্যটন কার্যক্রম।

সাধারণত প্রতিবছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের অনুমতি থাকলেও, এ বছর পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে ভ্রমণের সময়সীমা কমিয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন জানান, শনিবার সেন্টমার্টিনগামী জাহাজগুলো পর্যটকদের নিয়ে ফিরবে। রোববার থেকে আর কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। সরকার পরবর্তীতে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ভ্রমণ বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন দ্বীপের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান বলেন, অনেক পর্যটক সময়মতো টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। ফলে অধিকাংশ ব্যবসায়ী এবার লাভের বদলে লোকসানে পড়েছেন। নির্বাচন শেষে যদি আবার পর্যটন চালু করা হয়, তাহলে কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দ্বীপের প্রায় সবাই পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত। হঠাৎ করে ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে। সময়সীমা আরও কিছুটা বাড়ানো হলে অন্তত আগামী নয় মাস চলার মতো প্রস্তুতি নেওয়া যেত।

জীবিকার সংকটের কথা তুলে ধরে স্থানীয় রিকশাচালক রহিম উল্লাহ বলেন, পর্যটক না থাকলে বিকল্প হিসেবে আবার মাছ ধরতে যেতে হবে। রিকশা কেনার জন্য নেওয়া ঋণ এখনো শোধ করা সম্ভব হয়নি, যা বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Nagad
Nagad

ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটন খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষ জড়িত। মানবিক দিক বিবেচনায় অন্তত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে সরকারি নির্দেশনায় সেন্টমার্টিনে পরিবেশ রক্ষায় একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। পাশাপাশি সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ যেকোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ সব ধরনের মোটরচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। পর্যটকদের পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন না করার পাশাপাশি নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।