Print

সারাদিন

নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে: ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন

প্রকাশিত: ৭:৪১ অপরাহন, ফেব্রুয়ার ১৪, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস বলেছেন, ২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য এবং দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। এটি গণতান্ত্রিক শাসন এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পর্যবেক্ষক মিশনের প্রাথমিক রিপোর্ট তুলে ধরার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

ইজাবস বলেন, ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো, নির্বাচন সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক ছিল এবং একটি নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মৌলিক স্বাধীনতাকে মর্যাদা দিয়েছে। তবে, বিক্ষিপ্ত স্থানীয় রাজনৈতিক সহিংসতা এবং ম্যানিপুলেটেড অনলাইন আখ্যান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে এবং স্বচ্ছভাবে কাজ করেছে, স্টেকহোল্ডারদের আস্থা বজায় রেখেছে এবং নির্বাচনের অখণ্ডতা নিশ্চিত করেছে। মিশনটি মনে করে, ২০২৫ সালের সংশোধনী অন্তর্ভুক্তি নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা শক্তিশালী করেছে, তবে আরও সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।

ইজাবস বলেন, সদ্য নিযুক্ত নির্বাচন কমিশন জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সমর্থন নিয়ে কমিশন স্বচ্ছভাবে কাজ করেছে, সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের দ্রুত উত্তর দিয়েছে, জনস্বার্থ সম্পর্কিত তথ্য ভাগ করেছে এবং রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনাও চালিয়েছে।

তিনি নারীদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ৪ শতাংশ, ডিজিটাল মাধ্যমে হয়রানি ও বৈষম্যের ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের উন্নতির জন্য স্পষ্ট রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব লক্ষ্য করা গেছে। প্রচারণার সময় ভীতি প্রদর্শন এবং বিশেষ করে নারী প্রচারকদের হয়রানি হয়েছে।

Nagad
Nagad

ইইউ মিশন ৫৬টি সহিংস ঘটনার কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে শারীরিক আঘাত ও প্রাণহানি ঘটেছে। কারসাজি করা অনলাইন বর্ণনা বা প্রোপাগান্ডা রাজনৈতিক সহিংসতাকে উসকে দিয়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।

পর্যবেক্ষক বলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণও হতাশাজনক ছিল। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক নেতাদের ধৈর্য ও শান্ত আচরণ স্বাগত জানাই। নতুন সরকারকে মানবাধিকার, জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।