Print

সারাদিন

প্যারেন্ট স্টক আমদানিতে শর্ত, পোল্ট্রি খাতে কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণের শঙ্কা

প্রকাশিত: ৯:১০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মুরগির প্যারেন্ট স্টক আমদানিতে শর্ত ও বিধিনিষেধ যুক্ত করে জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা-২০২৬ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে সরকার। গত ২২ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ খসড়া অনুমোদন হয়।

নীতিমালার ৫.৮.১.২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কেবল একদিন বয়সী গ্র্যান্ড প্যারেন্ট স্টক ও একদিনের বাচ্চার সংকট দেখা দিলে ক্ষেত্রবিশেষে প্যারেন্ট স্টক বাচ্চা আমদানি করা যাবে। তবে ‘ক্ষেত্রবিশেষ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে এবং কোন পরিস্থিতিকে সংকট ধরা হবে—তা স্পষ্ট নয় বলে খাত সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, নীতিমালা চূড়ান্ত হলে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার পোল্ট্রি শিল্প ধীরে ধীরে ৫-৬টি বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে গিয়ে উৎপাদন ব্যাহত ও ডিম-মুরগির দামে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে বাণিজ্যিকভাবে ব্রয়লার, লেয়ার ও কালার বার্ড উৎপাদন হয়। লেয়ার ও কালার বার্ডের প্যারেন্ট স্টক প্রায় পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। ব্রয়লারের ক্ষেত্রে ১৯টি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত থাকলেও বাস্তবে একই গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠান বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে প্যারেন্ট স্টক উৎপাদন মূলত কয়েকটি কর্পোরেট গ্রুপের হাতেই কেন্দ্রীভূত।

বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠান থেকেই প্যারেন্ট স্টক কিনে তিন শতাধিক ব্রিডার ফার্ম একদিন বয়সী বাণিজ্যিক বাচ্চা উৎপাদন করে। কোনো প্রতিষ্ঠানে রোগবালাই বা উৎপাদন বিঘ্ন ঘটলে সারাদেশে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, প্যারেন্ট স্টক আমদানি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ; সংকট তৈরি হলে তা কাটাতে দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে। তাই আমদানির পথ সংকুচিত করলে সংকট মোকাবিলা কঠিন হবে।

Nagad
Nagad

তাদের দাবি, দেশে উৎপাদন সক্ষমতা ৮৭ লাখ হলেও চাহিদা প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ। অর্থাৎ অন্তত ১৬ লাখ প্যারেন্ট স্টক আমদানির প্রয়োজন রয়েছে। যদিও ব্রয়লার প্যারেন্ট স্টকে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের কথা বলছে সরকার।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী বলেন, পোল্ট্রি শিল্প খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তাই খামারিদের সময়মতো ও ন্যায্য দামে বাচ্চা নিশ্চিত করতে হবে।

সিলেটের অয়েস্টার পোলট্রি অ্যান্ড ফিশারিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইমরান হোসাইন বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে আমদানির সুযোগ না থাকলে বাচ্চার দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না।

এদিকে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর সাবেক মহাপরিচালক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম মত দেন, সীমিত পরিসরে হলেও ঘাটতি পূরণে আমদানির সুযোগ রাখা উচিত। তবে সবার জন্য উন্মুক্ত না রেখে উৎপাদন ও বাজারজাতকারীদের জন্য নিয়ন্ত্রিত সুযোগ রাখা যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, নীতিমালা বাস্তবভিত্তিক, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতাবান্ধব না হলে এটি উন্নয়নের পরিবর্তে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। প্রাণিজ আমিষ নিরাপত্তা, লাখো খামারির জীবিকা এবং ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত জরুরি।