Print

সারাদিন

ইরানে অভিযানের আভাস, যুদ্ধজাহাজে মধ্যপ্রাচ্যের পথে মার্কিন মেরিন বাহিনী

প্রকাশিত: ৪:১৫ অপরাহন, মার্চ ১৪, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের মধ্যে বড় ধরনের স্থল অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের ১৫তম দিনে জাপানের ওকিনাওয়া থেকে মার্কিন মেরিন সেনাদের একটি শক্তিশালী দল মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।

জানা গেছে, জাপানে অবস্থানরত ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের সদস্যরা উভচর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলিতে করে সম্ভাব্য রণক্ষেত্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউএসএস ত্রিপোলি একটি বিশেষায়িত উভচর আক্রমণ জাহাজ, যা সমুদ্র থেকে সরাসরি স্থলভাগে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম নামিয়ে অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে এবারই প্রথম সরাসরি স্থলসেনা মোতায়েনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রয়োজনে ইরানের উপকূলীয় কোনো অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া বা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দ্রুত অভিযান চালানোর লক্ষ্যেই এই মেরিন বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, যা সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

এদিকে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক অঙ্গনেও কিছু নড়াচড়া দেখা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে এর আগে ইরান জানিয়েছিল, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়।

পরিস্থিতির অবনতি বিবেচনায় গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনটি দাবি উত্থাপন করেন। তার দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানের সার্বভৌম অধিকারের পূর্ণ স্বীকৃতি, ভবিষ্যতে দেশটির ওপর আর কোনো হামলা না হওয়ার আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি এবং একটি টেকসই শান্তি চুক্তি।

Nagad
Nagad

তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল এখন পর্যন্ত এসব দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জবাবে ইরান পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।