প্রকাশিত: ১১:৩১ পূর্বাহ্, মার্চ ১৫, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রপথে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে লিবিয়াতে বাংলাদেশিসহ ১২১ জন অনিয়মিত অভিবাসী আটক হয়েছেন। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রশাসন বিভিন্ন শহরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। বর্তমানে আটকদের বিশেষ আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে এবং দ্রুতই নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পূর্বাঞ্চলভিত্তিক সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লিবিয়ার অ্যান্টি-ইলিগ্যাল মাইগ্রেশন এজেন্সি (এআইএমএ) দুই দফায় এই অভিযান পরিচালনা করে।
গত ৮ মার্চ আল-বাইদা শহর থেকে ১৬ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। তারা সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরে ১২ মার্চ সির্তে শহর থেকে আরও ১০৫ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নাগরিক থাকলেও পৃথকভাবে সংখ্যা জানানো হয়নি।
আটকদের বেনগাজি গ্রেটার এবং গনফুদা আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান সালাহ আল-খাফিফি এক নিরাপত্তা বৈঠকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অনিয়মিত অভিবাসীদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, অভিবাসন ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফি শাসনের পতনের পর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত লিবিয়া বর্তমানে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসনের অধীনে বিভক্ত। দুর্বল সীমান্ত ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মানবপাচারকারী চক্রগুলো।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়ায় অভিবাসীদের অপহরণ, নির্যাতন এবং জোরপূর্বক শ্রমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। তবুও উন্নত জীবনের আশায় এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বহু মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে লিবিয়াকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছেন।