প্রকাশিত: ৫:৩১ অপরাহন, এপ্রিল ১১, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরান-এর জব্দ করা অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানে চলমান দুই দেশের আলোচনার আগে এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে তেহরান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের একটি সূত্র জানায়, জব্দ করা অর্থ মুক্ত করার বিষয়টি সরাসরি হরমুজ প্রণালি-তে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার সঙ্গে সম্পর্কিত। ধারণা করা হচ্ছে, চলমান আলোচনায় এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
আরেকটি সূত্রের দাবি, প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা কাতার-এর ব্যাংকগুলোতে আটকে ছিল। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ওয়াশিংটন। একইভাবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম ইরানের এই অর্থ জব্দ করে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে দুই দেশের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে অর্থ ছাড়ার কথা থাকলেও একই বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল-এর ওপর হামলার পর তা আবারও স্থগিত করা হয়।
সে সময় যুক্তরাষ্ট্র জানায়, অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ইরান এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে না এবং প্রয়োজনে তা স্থায়ীভাবে জব্দ রাখার অধিকার ওয়াশিংটনের রয়েছে। এই অর্থের উৎস মূলত দক্ষিণ কোরিয়া-তে ইরানের তেল বিক্রির আয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে সেখানকার ব্যাংকগুলোতে আটকে যায়।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কাতার-এর মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তি হয়। ওই চুক্তির আওতায় পাঁচজন মার্কিন নাগরিককে ইরান থেকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আটক পাঁচজন ইরানিকেও মুক্তি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা অর্থ কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। তবে তখন যুক্তরাষ্ট্র জানায়, এই অর্থ কেবল মানবিক কাজে—খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃষিপণ্য কেনার জন্য—ব্যবহার করা যাবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি তাদের অর্থ বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকবে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই অর্থ ছাড়ার বিষয়ে সম্মতি দুই দেশের চলমান আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো বাকি রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স।