Print

সারাদিন

‘দেশে তেলের সংকট নেই, কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে অসাধু চক্র’

প্রকাশিত: ৫:৩৫ অপরাহন, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ মজুত ও কালোবাজারির কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সংসদ সদস্য তার প্রশ্নে অভিযোগ করেন, বাস্তবে অনেক পাম্পে গ্রাহকদের নির্দিষ্ট সীমার বেশি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না এবং মোটরসাইকেলে বিশেষ চিহ্ন দিয়ে পুনরায় তেল নেওয়া ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ প্রেক্ষিতে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, গত বছরের মার্চ মাসের মতো চলতি বছরের মার্চ মাসেও সমপরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে সরবরাহ ঘাটতির কোনো বিষয় নেই। তবে জনমনে আতঙ্ক থেকে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা এবং অসাধু চক্রের মজুতদারির কারণে সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, মোটরসাইকেলে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল দেওয়া বা রং লাগানোর বিষয়ে সরকারের কোনো নির্দেশনা নেই।

সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম সংকট নিরসনে ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বেশকিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং বিপিসি কর্তৃক ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। অবৈধ মজুতকারীদের ধরতে সারাদেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৯ হাজার ১১৬টি অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার ৬৫০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় এবং ৫ লাখ ৪২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। মজুত ও কালোবাজারি প্রতিরোধে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।

Nagad
Nagad

তিনি আরও জানান, জ্বালানি তেল বিপণনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকা মহানগরীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকদের জ্বালানি সংগ্রহের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এই উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে তা দেশব্যাপী বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।