Print

সারাদিন

সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে বিজিবি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন

প্রকাশিত: ১১:৪৪ অপরাহন, মে ১১, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের ঘোষণাকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত লবণচাষিদের জীবনমান উন্নয়নবিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা দেন, বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সকে (বিএসএফ) প্রয়োজনীয় জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যদি তাদের সীমান্তে কাঁটাতারের সীমানা নির্ধারণ করতে চায়, সেটি তাদের নিজস্ব বিষয়। এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভারতের কোনো অঙ্গরাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কিংবা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সার্বক্ষণিক সতর্ক রয়েছে।

Nagad
Nagad

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে এ ধরনের কোনো ঘটনার সত্যতা বা বাংলাদেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার মতো তথ্য এখন পর্যন্ত সরকার পায়নি।

এসময় জনগণকে গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় লবণচাষিদের বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশে লবণ শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লবণের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় বর্তমানে লবণ উৎপাদনের ব্যয় পর্যালোচনা করছে। একইসঙ্গে শিল্প ও ভোজ্য লবণের চাহিদা যাচাই করে আমদানির যৌক্তিকতাও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যাতে দেশ লবণ উৎপাদনে সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে এবং লবণচাষিরা ন্যায্য মূল্য পান।