Print

সারাদিন

টিকা সংকট নিয়ে সরকারকে ১০ বার সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ

প্রকাশিত: ৯:১১ পূর্বাহ্, মে ২১, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

বাংলাদেশে সম্ভাব্য টিকা সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অন্তত ১০ বার সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ। পাশাপাশি এ বিষয়ে পাঁচ থেকে ছয়টি আনুষ্ঠানিক চিঠিও দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (২০মে) রাজধানীতে ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি বলেন, টিকা ক্রয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার কারণেই দেশে সময়মতো টিকা পৌঁছায়নি।

রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, টিকা সংকটের বিষয়টি নিয়ে ২০২৪ সাল থেকেই সরকারকে সতর্ক করা হচ্ছিল। এ বিষয়ে অন্তত ১০টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঁচ থেকে ছয়টি চিঠি পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহে দীর্ঘ সময় লাগে। অথচ ইউনিসেফের মাধ্যমে তুলনামূলক দ্রুত টিকা সংগ্রহ সম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরে দেশে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ, যাদের বেশিরভাগই শিশু। ইতোমধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৪৭৫ জন। বাংলাদেশে এর আগে হামে এত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে জানায় ইউনিসেফ।

তবে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানান রানা ফ্লাওয়ার্স।

Nagad
Nagad

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ১ কোটি ৭৮ লাখ হামের টিকা এসেছে, যা মোট চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। অথচ দেশে বছরে প্রায় ৭ কোটি হামের টিকার প্রয়োজন হয়।

রানা ফ্লাওয়ার্স আরও বলেন, এখন কাউকে দোষারোপ করার সময় নয়। ভবিষ্যতে যাতে কোনো শিশু প্রতিরোধযোগ্য রোগে মারা না যায়, সেজন্য টিকাদান ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হবে।

তিনি জানান, ইউনিসেফ বহু বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য টিকা সংগ্রহ করে আসছে এবং সংস্থাটি বড় পরিসরে টিকা কেনায় কম দামে মানসম্মত টিকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়।