প্রকাশিত: ১০:২৫ পূর্বাহ্, মে ২৩, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক শিশু ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এর আগেই চট্টগ্রাম, মুন্সীগঞ্জ, সিলেট ও ঠাকুরগাঁওয়ে একাধিক শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
বাকলিয়া (চট্টগ্রাম): বৃহস্পতিবার (২১ মে) চট্টগ্রামের বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় মনির নামের এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পল্লবী (ঢাকা): এর আগে ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয় সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে। এই ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাক গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ): গত ১৬ মে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার চান্দের চর গ্রামে ১০ বছরের শিশু আছিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় রাজা মিয়া (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রানীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও): গত ১৪ মে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে চার বছরের শিশু লামিয়া আক্তার নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর একটি ভুট্টাখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছিল।
জালালাবাদ (সিলেট): গত ৬ মে সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ এলাকায় চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণের চেষ্টার পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত জাকির হোসেন মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রেখে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজেই শিশুটিকে খোঁজার নাটক করেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত দেশে অন্তত ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণ বা ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে ১৭ জন শিশু।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক, পারিবারিক ভাঙন, সামাজিক অবক্ষয়, অনলাইন আসক্তি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি শিশু নির্যাতন বৃদ্ধির প্রধান কারণ। দ্রুত বিচার ও কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।