Print

সারাদিন

সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের ঢল, প্রস্তুত ১৭৫ লঞ্চ

প্রকাশিত: ১১:৩৬ পূর্বাহ্, মে ২৫, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি ছুটি শুরু হতেই রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। সোমবার (২৫মে) সকাল থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে পরিবার-পরিজন নিয়ে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিকেল ও রাতের দিকে যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে।

সকাল থেকে সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় দেখা যায়, পন্টুনজুড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন যাত্রীরা। কারও হাতে ট্রাভেল ব্যাগ, কেউ মাথায় মালপত্র নিয়ে লঞ্চে ওঠার তাড়াহুড়ায় ব্যস্ত। শিশুদের হাত শক্ত করে ধরে রেখেছেন অভিভাবকরা। অনেকে আবার নির্ধারিত লঞ্চের সামনে আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছেন।

বিশেষ করে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও চাঁদপুরগামী লঞ্চের পন্টুনগুলোতে তুলনামূলক বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। লঞ্চের সাইরেন, মাইকিং ও যাত্রীদের কোলাহলে পুরো টার্মিনাল এলাকা সরগরম হয়ে ওঠে।

ঘাটজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতাও চোখে পড়ে। পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও আনসার সদস্যদের বিভিন্ন পন্টুন এলাকায় অবস্থান করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি বুড়িগঙ্গা নদীর পানি বাড়ায় পন্টুনগুলো কিছুটা উঁচু থাকায় যাত্রীদের ওঠানামায় স্বস্তি মিলছে।

বরিশালগামী যাত্রী মো. মনিরুল হোসেন বলেন, ছুটি শুরু হওয়ায় সবাই একসঙ্গে বাড়ি ফিরছেন। সকালে কিছুটা স্বস্তিতে লঞ্চে উঠতে পারলেও দুপুরের পর ভিড় বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।

ভোলাগামী শাহিনা আক্তার বলেন, বাচ্চাদের নিয়ে আগে বের হয়েছি। শেষ মুহূর্তে এলে বেশি ভোগান্তি হতো। এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরে চাপ বাড়তে পারে।

Nagad
Nagad

বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, এবারের ঈদযাত্রায় নদীপথে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ যাত্রী চলাচল করতে পারেন। এ চাপ সামাল দিতে প্রায় ১৭৫টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত বিশেষ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, আজ থেকেই যাত্রীর চাপ বাড়তে শুরু করেছে। যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি থাকবে।

তিনি জানান, ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত সদরঘাট ও আশপাশের নদীপথে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। র‍্যাব, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, ডিএমপি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

এদিকে লঞ্চ মালিকপক্ষও নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। পারাবত-৮ লঞ্চের পরিচালক মো. কামাল হোসেন বলেন, ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে লঞ্চের ফিটনেস, লাইফ জ্যাকেট ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, সদরঘাটসহ বিভিন্ন যাতায়াতকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও পকেটমার ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি থাকবে।