প্রকাশিত: ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ৩, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে ইরানের ছোড়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
বুধবার (৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম এ তথ্য জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরান তাদের আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্য করে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পর পাল্টা হামলা চালানো হয়। তবে ইরানের ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্রই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে অথবা নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
সেন্টকম জানায়, কুয়েতকে লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ভেঙে পড়ে। অন্যদিকে বাহরাইনকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন ও বাহরাইনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। হামলার পর কুয়েত ও বাহরাইনের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।
এর আগে ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছিল, কেশম শহরের ভেতরে কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত এই উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
আইআরজিসির দাবি, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে প্রথমে মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়। এতে ট্যাংকারটির ইঞ্জিন রুম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর জবাবে আইআরজিসি নৌ-ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একটি মার্কিন-ইসরায়েলি জাহাজে পাল্টা হামলা চালায়।
জাহাজে হামলার পর মার্কিন বাহিনী কেশম দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত আইআরজিসির একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ টাওয়ার লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং সেটি ধ্বংস করে দেয় বলে দাবি করা হয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে অঞ্চলের একটি দেশে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি, মার্কিন হেলিকপ্টার এবং মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে সমন্বিত হামলা চালায় বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।
সাম্প্রতিক এ সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।