প্রকাশিত: ৪:২৮ অপরাহ্ণ, জুন ৭, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, শিশু রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল এবং মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে তা প্রমাণিত হয়েছে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দীতে সোহেল রানা ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এছাড়া ঘটনার পর তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, আসামিরা অপরাধ স্বীকার করার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন করেননি। উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে উভয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত না হলে বিচারব্যবস্থা ব্যর্থ হবে বলেও মন্তব্য করেন বিচারক।
এর আগে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
গত বৃহস্পতিবার মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এরপর বিচারক ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি ছিল, মামলার দুই আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং তারা সর্বোচ্চ শাস্তির যোগ্য। অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সোহেল রানার মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আবেদন করেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় প্রতিবেশী সোহেল রানার বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ও ৮ বছর বয়সী রামিসা আক্তারের শিরশ্ছেদ করা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন রামিসার বাবা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার সাত ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ এবং ছয় দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে ১ জুন মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। ২ জুন রামিসার পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসক, পুলিশ কর্মকর্তা ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষ্য দেন।
আলোচিত এ মামলার বিচারকাজ মাত্র চার কার্যদিবসে সম্পন্ন হওয়ায় এটি দেশের বিচারিক ইতিহাসে অন্যতম দ্রুত নিষ্পত্তিকৃত ধর্ষণ ও হত্যা মামলার নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।