প্রকাশিত: ৬:৩৪ অপরাহ্ণ, জুন ৭, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, কিছু মিডিয়া এবং কিছু নামধারী সাংবাদিক প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করে যাচ্ছে। যারা গুম-খুনের বৈধতা উৎপাদন করেছে, ভোট চুরির বৈধতা উৎপাদন করেছে, এসব নামধারী সাংবাদিক ও মিডিয়ার বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটি জানতে চাচ্ছি।
রোববার (৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে এসব কথা বলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। এদিন অধিবেশন পরিচালনা করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের যে মিডিয়াগুলো রয়েছে তারা প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা অবশ্যই প্রয়োজন। দীর্ঘ ১৬ বছরের বেশি সময় আমরা দেখেছি সাংবাদিকতা করা খুব ডিফিকাল্ট ছিল। সেই সময়েও অনেক পেশাদার সাংবাদিক তাদের দায়িত্ব পালন করে গেছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে—আওয়ামী লীগের সময় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে যারা গণহত্যা করেছে। যারা ভোট চুরি, গুম-খুন, ব্যাংক ডাকাতির বৈধতা ও সম্মতি উৎপাদন করেছে মিডিয়াগুলোতে এবং যারা আজ সরকার দলে আছে বিএনপি; বিএনপির সর্বোচ্চ নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকেও বিভিন্ন ষড়যন্ত্রকারী দেশদ্রোহী হিসেবে তুলে ধরে আমরা দেখেছি বসুন্ধরার ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া বিভিন্ন সময় নিউজ করেছে। আজ যারা বিএনপি ও জামায়াত আছে আমাদের এই সংসদে, তাদেরকেও বিভিন্ন সময় হত্যার সম্মতি উৎপাদন করেছে কিছু মিডিয়া এবং কিছু নামধারী সাংবাদিক। এই সাংবাদিকদের বিভিন্ন হাউজে আবার বর্তমানে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এখন টিভি থেকে জুলাইয়ের পক্ষের যারা সাংবাদিক ছিল, তাদেরকে বের করে দেওয়া হয়েছে। সময় টিভিকে দখল করা হয়েছে। ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া, অর্থাৎ বসুন্ধরা গ্রুপের যে মিডিয়াগুলো রয়েছে, তারা প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করে যাচ্ছে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, গতকাল নোয়াখালীতে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রলীগ ছাত্রদলকে পিটিয়েছে। সেটাকে উদযাপন করতে দেখা গেছে বসুন্ধরার মিডিয়া এবং কিছু টকশজীবীকে। আমার মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন হচ্ছে—যারা এই গুম-খুনের বৈধতা উৎপাদন করেছে, ভোট চুরির বৈধতা উৎপাদন করেছে, গণতন্ত্রের পক্ষে যারা ছিল, তাদেরকে হত্যাযোগ্য করে তোলা হয়েছে—এসব নামধারী সাংবাদিক ও মিডিয়ার পক্ষে-বিপক্ষে বা কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আইনি ব্যবস্থা আদৌ নেওয়া হয়েছে কি না, কেন তাদেরকে আবার পুনর্বাসন করা হচ্ছে, সেটির আইনগত কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা এ সংসদের সামনে উপস্থাপন করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। মন্ত্রী কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন এ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে, সেটি জানতে চাচ্ছি।
জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, আমরা একটি কথা বলতে চাই, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রয়েছে। তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যারা এ গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার বিপক্ষে কাজ করবে, গণতন্ত্র ধূলিসাৎ করার কাজ করবে, কোনো সন্ত্রাসের পক্ষে কাজ করবে—সে যে-ই হোক, সে আইনের ঊর্ধ্বে না; তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেটি সাংবাদিক হোক আর আমাদের পলিটিশিয়ান, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী কেউই আইনের ঊর্ধ্বে না। কাজেই কেউ যদি আইনের বিপক্ষে কাজ করে সে যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে যে সরকার গঠন হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর (তারেক রহমান) নেতৃত্বে যে সরকার গঠন হয়েছে, সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।