প্রকাশিত: ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ৮, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বড় ধরনের সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন কর্মসূচি চালু, ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। ফলে বরাদ্দ বাড়ছে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা।
শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য নতুন ভাতা
নতুন কর্মসূচির আওতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের চারটি শ্রেণিতে ভাগ করে ভাতা দেওয়া হবে। মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৫১৩ জন।
এর মধ্যে ৮৪৪টি শহীদ পরিবার মাসে ২০ হাজার টাকা করে পাবে। একই পরিমাণ অর্থ পাবেন ‘এ’ শ্রেণির ১ হাজার ৬০৭ জন গুরুতর আহত ব্যক্তি। এছাড়া ‘বি’ শ্রেণির ১ হাজার ৬১৪ জন আহত ব্যক্তি মাসে ১৫ হাজার টাকা এবং ‘সি’ শ্রেণির ১২ হাজার ৪৪৮ জন আহত ব্যক্তি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।
এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে আগামী অর্থবছরে মোট ২৩৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
বর্তমানে বীর মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা পান। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গুরুতর আহত জুলাই যোদ্ধারাও একই পরিমাণ ভাতা পাবেন।
তবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী অপরিবর্তিত থাকলেও বীর প্রতীক, বীর বিক্রম, বীর উত্তম ও বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত এবং তাদের পরিবারের জন্য বিশেষ সম্মানী ৫ হাজার টাকা করে বাড়িয়ে যথাক্রমে ২৫ হাজার, ৩০ হাজার, ৩৫ হাজার ও ৪০ হাজার টাকা করা হচ্ছে।
সামাজিক নিরাপত্তায় যুক্ত হচ্ছে আট নতুন কর্মসূচি
সরকার আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আটটি নতুন কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কর্মসূচি হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড।
এই কর্মসূচির আওতায় ৪১ লাখ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রতিটি পরিবার মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবে। এ খাতে ব্যয় হবে ১২ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা।
এছাড়া কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। এতে সরকারের ব্যয় হবে ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
নতুন কর্মসূচির মধ্যে আরও রয়েছে কর্মহীন শ্রমিকদের সুরক্ষা, ভিজিএফ কার্যক্রমের পুনর্বিন্যাস, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সেবকদের জন্য সম্মানী ভাতা।
ইমাম, পুরোহিত ও খাদেমদের জন্য সম্মানী
মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৬৬ জনকে সম্মানী ভাতার আওতায় আনা হবে।
এর মধ্যে ৮৬ হাজার ৮৩৩ জন ইমাম, পুরোহিত ও বিহার অধ্যক্ষ মাসে ৫ হাজার টাকা করে পাবেন। একই সংখ্যক মুয়াজ্জিন, সেবাইত ও বিহার উপাধ্যক্ষ পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা। এছাড়া ৮২ হাজার খাদেমকে মাসে ২ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা দুই ঈদ উপলক্ষে মোট ২ হাজার টাকা উৎসব ভাতা পাবেন। অন্যদিকে পুরোহিত, সেবাইত এবং বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা ও বড়দিন উপলক্ষে ২ হাজার টাকা উৎসব ভাতা পাবেন।
বাড়ছে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা
আগামী বাজেটে বয়স্ক ভাতার হার ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হচ্ছে। উপকারভোগীর সংখ্যা ৬১ লাখ থেকে বেড়ে ৬২ লাখ হবে।
বিধবা ও স্বামী-নিগৃহীতা নারীদের ভাতাও ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা এক লাখ বাড়িয়ে ৩০ লাখ করা হবে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাসিক ভাতা ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উপকারভোগীর সংখ্যা ৩৪ লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩৮ লাখে উন্নীত করা হবে।
এছাড়া প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ করা হচ্ছে।
বাড়ছে গুরুতর রোগীদের আর্থিক সহায়তা
ক্যানসার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের এককালীন আর্থিক সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এনআইডি বাধ্যতামূলক, চালু হচ্ছে ডিএসআর
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সুবিধাভোগীদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন ও অভিভাবকের এনআইডি প্রয়োজন হবে।
এছাড়া চালু করা হবে ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি (ডিএসআর)। এই ডিজিটাল তথ্যভান্ডারের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের তথ্য সংরক্ষণ, যাচাই ও বিশ্লেষণ করা হবে। সরকারের আশা, এর ফলে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন সহজ হবে এবং অনিয়ম কমবে। সূত্র; জাগো নিউজ