প্রকাশিত: ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
চট্টগ্রামের পটিয়ায় অপহৃত হওয়ার দুদিন পর পাঁচ বছর বয়সী শিশু মো. জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে পটিয়া পৌরসভার গোবিন্দার খীল এলাকার পূর্বপাড়া গ্রামে ভুক্তভোগীর বাড়ির পাশের ময়লার ভাগাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত জায়হান ওই এলাকার গ্যারেজ ব্যবসায়ী শাহজাহানের একমাত্র সন্তান। সে স্থানীয় একটি নূরানী মাদ্রাসার ছাত্র ছিল। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ৫ প্রতিবেশীকে আটক করেছে।
আটককৃতরা হলেন মো. সাইফুল, শাহানুর, নিহা, নিহান ও ওয়াসিফা। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য এবং তাদের বসতঘরের পেছন থেকেই উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি লাশ।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুন দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলার সময় নিখোঁজ হয় জায়হান। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। প্রথমে পরিবারের ধারণা ছিল শিশুটি বাড়ির সামনের পুকুরে ডুবে গেছে। সে কারণে এলাকাবাসীর সহায়তায় পুকুরে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু সন্ধান না মেলায় পটিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করে তার পরিবার।
এদিকে, ঘটনার দিন বিকেল তিনটার দিকে শাহজাহানের শোবার ঘরের বিছানায় একটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া যায়।
যাতে বলা হয় ‘তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে, ছেলেকে পেতে চাইলে যেটা বলছি সেটা শোন…আধা ঘণ্টার ভেতর ৩ লাখ টাকা আর তোর ফ্যামিলির যেকোনো একজনের মোবাইল আনলক করে একটা ব্যাগে করে তোর বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে ভাঙা দোকানের ভেতর রেখে দিবি।’
ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চিঠিটি আলামত হিসেবে সংগ্রহ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে।
স্বজনদের অভিযোগ, টাকার লোভেই প্রতিবেশীরা শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করেছিল। পরে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তাকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যার পর মরদেহ বস্তায় ভরে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়। অথচ ঘটনার পর থেকে ওই প্রতিবেশীরাও পরিবারের সঙ্গে নাটকীয়ভাবে জায়হানকে খোঁজাখুঁজির অভিনয় করেছিল।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ভোরে শিশুটির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। সূত্র: আরটিভি