Print

সারাদিন

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পরিবর্তন হচ্ছে বগুড়ার সেই দুই ইউনিয়নের নাম

প্রকাশিত: ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ২০, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার নবগঠিত ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়ন দুটির নাম পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে। নতুন নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত, এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং ভৌগোলিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ জন্য পুনরায় গণশুনানির আয়োজন করা হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নতুন নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর বিধি অনুযায়ী তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

গত ১১ জুন বগুড়ার জেলা প্রশাসকের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের মাধ্যমে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। এর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলায় নতুন ইউনিয়নের নাম দেওয়া হয় ‘মীরবাড়ী’ এবং মোকামতলা উপজেলায় গঠিত তিনটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয় ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’।

এই নামকরণের পরেই অভিযোগ ওঠে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম ‘মীরবাড়ী’ এবং তাঁর বড় ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত ও ছোট ছেলে মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামের সঙ্গে মিল রেখে ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং নামকরণের স্বচ্ছতা ও গণশুনানি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমনকি বিষয়টি জাতীয় সংসদেও উত্থাপিত হয়।

Nagad
Nagad

জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক যাচাই-বাছাই এবং গণশুনানির মাধ্যমেই নামগুলো নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন, সৈয়দপুর ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট এলাকাটি গাবতলী ও সোনাতলা উপজেলার সীমান্তে হওয়ায় এর নাম ‘সীমান্ত’ এবং অন্য এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় ‘দিগন্ত’ রাখা হয়েছে। তাঁর ছেলেদের নামের সঙ্গে এই নাম মিলে যাওয়াকে তিনি ‘কাকতালীয়’ বলে দাবি করেন।

প্রতিমন্ত্রীর এমন ব্যাখ্যার পরেও জনমনে অসন্তোষ ও সমালোচনা অব্যাহত থাকায় শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করেন এবং নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেন।