Print

সারাদিন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগে ফৌজদারী মামলা

প্রকাশিত: ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই নতুন একটি আইনি পদক্ষেপ সামনে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে অনলাইনে অবমাননাকর ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে কাওসার আহমাদের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলাটি দায়ের করেন বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত ইউসুফ কাউসার। গত ১৬ জুন তিনি ঢাকা মহানগরের মুখ্য হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে মামলাটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. এহসানুল ইসলামের ৮নং আদালতে উপস্থাপিত হয় এবং মামলার শুনানী শেষে বিচারক মামলাটি আমলে নেন । 
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১, ৫০৪, ৫০৫ এবং ৫০৫(ক) ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়েছে। এর রেফারেন্স নম্বর সি.আর.-৬৩০/২০২৬। মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৬ জুলাই। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদপুর থানাকে।
অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত কাওসার আহমাদ তাঁর টুইটার/এক্স অ্যাকাউন্ট এবং ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে এমন কিছু বক্তব্য প্রকাশ করেছেন যা মানহানিকর, অসত্য, কুরুচিপূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেছেন যে সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন পরিসরে তাদের দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রচারণা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, শিবির/জামাত/এনসিপি রাজনৈতিক সমালোচনার আড়ালে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপপ্রচার চালানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
দলীয় সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও কোনো ব্যক্তি বা জাতীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রচার আইনের আওতায় পড়তে পারে। তারা আদালতের মাধ্যমে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রত্যাশা করছেন।
অন্যদিকে, অভিযোগে উল্লেখিত বক্তব্যগুলো কী প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত হয়েছিল এবং সেগুলোর প্রকৃত অর্থ কী ছিল—সেসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে বলে আইন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বাংলাদেশের রাজনৈতিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আমূল পরিবর্তন করেছে। আগে যে বিতর্কগুলো সীমিত পরিসরে থাকত, এখন তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জাতীয় আলোচনায় পরিণত হতে পারে। এর ফলে রাজনৈতিক দল, কর্মী ও সমর্থকদের অনলাইন কার্যক্রমও ক্রমশ বিচারিক নজরদারির আওতায় আসছে।
এ ধরনের মামলাগুলোকে কেউ কেউ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয়ের লক্ষণ হিসেবে দেখেন, আবার অন্যরা মনে করেন এটি ডিজিটাল পরিসরে দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার একটি প্রচেষ্টা। বর্তমান মামলাটিও সেই বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হয়ে উঠতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
এদিকে মামলার অভিযুক্ত কাওসার আহমাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর অবস্থান এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
পরবর্তী শুনানি ও তদন্তের অগ্রগতি এই মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।