Print

সারাদিন

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ‘বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০২৬’

প্রকাশিত: ২:৫০ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২৬

তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের খুলশী কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০২৬ (চট্টগ্রাম)’। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর (ডুআইসিটি)-এর যৌথ উদ্যোগে এ সামিটের আয়োজন করা হয়।

‘হোয়ার ট্যালেন্ট মিটস গ্লোবাল অপরচুনিটি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত দিনব্যাপী এ সামিটে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, শিল্পনেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, ফ্রিল্যান্সার, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীরা অংশ নেন। চট্টগ্রামের তরুণ জনশক্তিকে বৈশ্বিক কর্মসংস্থান, আউটসোর্সিং, ফ্রিল্যান্সিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়। সামিটে ক্যারিয়ার এক্সপো, সেমিনার, তথ্যপ্রযুক্তি অলিম্পিয়াড, নেটওয়ার্কিং সেশনসহ নানা দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

সামিটের পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিভার্সিটি অ্যাক্টিভেশন প্রোগ্রাম পরিচালিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের বিপিও ও আইটিইএস শিল্প, ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন এবং ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ‘রাউন্ড টেবিল উইথ ফিউচার লিডার্স’ শীর্ষক আলোচনায় তরুণ নেতৃত্ব ও বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় হয়।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পলিসি ডায়ালগ সেশনে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিল্পপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন। সেখানে চট্টগ্রামে বিপিও খাতের সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশ নিয়ে আলোচনা হয়।

সামিটে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি চট্টগ্রামের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ উদ্বোধন করেন।তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের তরুণরাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। সঠিক দক্ষতা ও সুযোগ পেলে তারাই বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।’

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবদুল্লাহ আল মামুন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাক্কো কার্যনির্বাহী কমিটির সহ সভাপতি মোঃ তানজিরুল বাসার, অর্থ সম্পাদক মোঃ আমিনুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুসনাদ-ই-আহমদ, পরিচালক আবু দাউদ খান, পরিচালক আব্দুল কাদের এবং পরিচালক সায়মা শওকত।

Nagad
Nagad

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘চট্টগ্রামের তরুণ জনশক্তি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে’। তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিপিও ও আইটিইএস শিল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে’। বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০২৬ (চট্টগ্রাম) তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং চট্টগ্রামে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে আবদুল্লাহ আল মামুন তাঁর বক্তব্যে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘সরকার, শিল্পখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব এবং এ ধরনের আয়োজন সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে’।

বিপিও শিল্পের আর্থ-সামাজিক এবং আঞ্চলিক সম্ভাবনার উপর গুরুত্ব দিয়ে বাক্কো সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম বলেন, ‘বাংলাদেশের বিপিও ও আইটিইএস শিল্প বর্তমানে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় রপ্তানিমুখী খাত। শিল্পখাতটি বর্তমানে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে এবং ১ লক্ষাধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় এবং ৩ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাক্কো কাজ করে যাচ্ছে’। তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামে সামিট আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় তরুণদের বৈশ্বিক সুযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তার ঘটানো’।

এছাড়া, সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আলিম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নই বিপিও ও আইটিইএস শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি’। তিনি তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, যোগাযোগ সক্ষমতা এবং পেশাগত প্রস্তুতি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শিল্পখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন তরুণদের বৈশ্বিক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করতে এবং চট্টগ্রামসহ দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।