প্রকাশিত: ১:৪৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
ঢাকার বড় বড় হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ কমাতে এবং চিকিৎসাসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
তিনি বলেন, দেশের মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল ও অন্যান্য বড় হাসপাতালগুলোতে ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসছেন। ফলে পাঁচশ শয্যার হাসপাতালে দুই হাজার রোগীকেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে এবং অনেক রোগীকে বারান্দায় অবস্থান করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান ঢাকার হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো নয়, বরং জেলা হাসপাতালগুলোকে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসুবিধাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলা হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সব ধরনের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে মানুষ নিজ জেলাতেই কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা পাবেন। সরকার সেই লক্ষ্য নিয়েই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
বাজেটের মানবিক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বাজেট শুধু সংখ্যার হিসাব নয়; এটি হৃদরোগে অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় থাকা রোগী, ছানিজনিত অন্ধত্বে ভোগা প্রবীণ ব্যক্তি এবং ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার বাজেট।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ গত অর্থবছরের ৩৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৬৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ বাজেটের মূল লক্ষ্য।
দেশে অসংক্রামক রোগের বিস্তার এবং চিকিৎসা ব্যয়কে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি রোগসহ অসংক্রামক ব্যাধির কারণে ঘটে। এছাড়া চিকিৎসা ব্যয়ের ৭৯ শতাংশ রোগীকেই নিজ পকেট থেকে বহন করতে হয়, যা থাইল্যান্ডে ১০ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮ শতাংশ।
তিনি জানান, এ বাস্তবতায় সরকার শুধু নতুন হাসপাতাল নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে না; পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, কার্যকর রেফারাল নেটওয়ার্ক এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিরোধী দলের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা স্বাস্থ্য খাতের মৌলিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা না করে শুধু রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়েই বেশি কথা বলছে। অথচ স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামো, জনবল, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
বক্তৃতার শেষদিকে নিজ নির্বাচনি এলাকা সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি জাতীয় পর্যায়ে একটি ‘চর উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’ গঠনের দাবি জানান। পাশাপাশি নদীভাঙনকবলিত খুকনী, জালালপুর, সনাতনীসহ চারটি ইউনিয়নের মানুষের সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।