Print

সারাদিন

অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে নতুন আইন পাস, ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান

প্রকাশিত: ৯:০২ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

১৫৯ বছর পুরোনো দ্য পাবলিম গ্যামব্লিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭ বাতিল করে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিতে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন এই আইনে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, ম্যাচ ফিক্সিংসহ প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার বিভিন্ন ধরনকে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা অনুমোদিত হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৮৬৭ সালের বিদ্যমান আইনটি বর্তমান ডিজিটাল বাস্তবতায় অনলাইন জুয়া ও প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক অপরাধ মোকাবিলায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। তাই আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

নতুন আইনে অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা জরিমানা, অনলাইন বেটিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা জরিমানা এবং সংঘবদ্ধভাবে ভুয়া সিম, এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, জুয়ার বিজ্ঞাপন, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, ক্লাউড অবকাঠামো কিংবা ডোমেইন ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

আইনে বলা হয়েছে, জুয়ার অর্থ ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ডিজিটাল ওয়ালেট, হাওলা, হুন্ডি বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন বা বৈধ করার চেষ্টা করলে তা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের অধীন সম্পৃক্ত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

Nagad
Nagad

এ ছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম ও অন্যান্য ডিজিটাল সম্পদ আদালতের আদেশে বাজেয়াপ্ত করা যাবে। অনলাইন জুয়াসংক্রান্ত মামলার বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে এবং আইনের অধীন সব অপরাধ আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস অযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে।

সরকার বা সরকার-নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে জুয়া-সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার, ডোমেইন, আইপি অ্যাড্রেস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ বা প্ল্যাটফর্ম ব্লক বা নিষিদ্ধ করতে পারবে। পাশাপাশি এনআইডি-সিম-এমএফএস সংযুক্তি, জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেজ এবং আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠনেরও বিধান রাখা হয়েছে।

সরকারের আশা, নতুন এই আইন কার্যকর হলে অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল আর্থিক প্রতারণা, অর্থপাচার এবং প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার বিস্তার রোধে কার্যকর আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে।