Print

সারাদিন

খামেনির জানাজায় জনসমাগম দেখে ‘হতবাক’ ট্রাম্প: অ্যাক্সিওস

প্রকাশিত: ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ইরানের সাধারণ মানুষের এমন আবেগ ও সমর্থন দেখে তিনি ‘হতবাক’ হয়েছেন।

অ্যাক্সিওসের সাংবাদিক বারাক রাভিদকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি এতদিন মনে করতেন ইরানের জনগণ তাদের সর্বোচ্চ নেতাকে অপছন্দ করে। তবে জানাজায় বিপুল জনসমাগম তার সেই ধারণা বদলে দিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, চাইলে জানাজায় উপস্থিত সবাইকে লক্ষ্য করে সামরিক হামলা চালানো সম্ভব ছিল। তবে ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনার কথা বিবেচনা করে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। একই সঙ্গে এই সময়ের মধ্যে নতুন করে কোনো সামরিক হামলা না চালানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ নীরব অবস্থান নিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে ইরানে ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শুরু হয়েছে। রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে আয়োজিত জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নেন। শোকাহত মানুষের ভিড়ে পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।

Nagad
Nagad

খামেনির মরদেহ ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো অবস্থায় জানাজাস্থলে আনা হয়। তার কফিনের পাশে পরিবারের নিহত সদস্যদের কফিনও রাখা হয়। এ সময় শোকাহত মানুষের আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, জানাজায় অংশ নেওয়া অনেকের হাতে শিয়া ঐতিহ্যের লাল পতাকা ছিল, যা প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। সমবেত জনতা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানও দেন।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে খামেনির কফিন নেওয়া হবে। ছয় দিনব্যাপী শোক ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার কর্মসূচি চলবে।