প্রকাশিত: ১:১৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের প্রবণতা কমাতে আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিল করে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৬ জুলাই) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমএস) আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্যসেবার কিছু প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত মুনাফার উদ্দেশ্যে প্রয়োজন না থাকলেও সিজারিয়ান করানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কিছু বেসরকারি ক্লিনিক ও দালালচক্র গর্ভবতী নারীদের এবং তাদের পরিবারকে নানা ধরনের জটিলতার ভয় দেখিয়ে সিজারিয়ান অপারেশনে রাজি করায়। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে সব বেসরকারি ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন করতে হবে। কোনো ক্লিনিক এ নির্দেশনা না মানলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এ সময় তিনি আরও জানান, দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিকে মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগও বাধ্যতামূলক করা হবে। এতে গর্ভবতী নারীরা যথাযথ পরামর্শ পাবেন এবং স্বাভাবিক প্রসবে উৎসাহিত হবেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মাতৃস্বাস্থ্য ও নবজাতকের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দক্ষ মিডওয়াইফদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যেই স্বাস্থ্যখাতে চলতি বছর এক লাখ নতুন জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার নারী নিয়োগ দেওয়া হবে এবং তাদের বড় একটি অংশ মিডওয়াইফ হিসেবে কাজ করবেন।
কর্মশালায় বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটির সভাপতি রোজিনা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক হাসনা আখতার এবং বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার হালিমা আখতারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।