প্রকাশিত: ১২:২১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
শেয়ারবাজারে অনিয়ম, কারসাজি ও ধারাবাহিক দরপতনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারির সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির অভিযোগে ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান চালিয়ে কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শেয়ারবাজারে কারসাজির দায়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট ১ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করেছে। পাশাপাশি অধিকতর তদন্তের জন্য অভিযুক্তদের তালিকা দুদকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, আগের সরকারের আমলে বাজার কারসাজি, আইপিও ও বন্ড ইস্যুতে অনিয়ম, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকির ঘাটতি এবং সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং একটি স্বচ্ছ ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে সরকারের নেওয়া ১২টি অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে— বিএসইসিতে দক্ষ নেতৃত্ব নিয়োগ, ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, লাভজনক সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিকে তালিকাভুক্তে উৎসাহ দেওয়া, ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন ও এসএমই কোম্পানিকে বাজারে আনা, হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা, অডিট ফার্মের নীতিমালা প্রণয়ন, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স হ্রাস, বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সরাসরি মামলা দায়েরের সুযোগ, পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন গঠন, ব্লকচেইন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি, ই-কেওয়াইসি ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন সহজীকরণ এবং বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল গঠন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। আমরা এমন একটি উন্নত পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে চাই, যেখানে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও সম্পদ সুরক্ষিত থাকবে।”