প্রকাশিত: ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে সংবিধানে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে সর্বোচ্চ আদালত এ সিদ্ধান্ত দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
রায় ঘোষণার পর ড. শরীফ ভূঁইয়া ও অ্যাডভোকেট শিশির মনির একে ‘ঐতিহাসিক রায়’ বলে অভিহিত করেন।
এর আগে টানা তিন দিন শুনানি শেষে বুধবার (৮ জুলাই) আপিল বিভাগ রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করেছিলেন।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে বাতিল করেন। একই সঙ্গে গণভোট বিলুপ্তসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ৪৭ ধারাও বাতিল করে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করা হয়।
হাইকোর্ট রায়ে আরও সংবিধানের ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদ বাতিল ঘোষণা করেন। তবে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল না করে বাকি বিষয়গুলো ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধন বা পরিবর্তন করতে পারবে বলে পর্যবেক্ষণ দেন আদালত।
রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং তা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিকশিত হয়। দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল। আদালতের মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।