প্রকাশিত: ১১:০২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
ইরাক ও ইরানের বিভিন্ন শহরজুড়ে কোটি কোটি মানুষের নজিরবিহীন শ্রদ্ধা নিবেদন ও অশ্রুসিক্ত বিদায় শেষে আজ চিরনিদ্রায় শায়িত হচ্ছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পবিত্র শহর মাশহাদে শিয়া সম্প্রদায়ের অষ্টম ইমাম, ইমাম রেজার (আ.) পবিত্র মাজার শরিফে তাকে দাফন করা হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পর দীর্ঘ ৪ মাসেরও বেশি সময় পর এই দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। খবর প্রেস টিভির।
প্রয়াত নেতার এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মাশহাদ শহরে এক অভূতপূর্ব জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়েছে। মাশহাদের গভর্নর হাসান হোসেইনি জানিয়েছেন, আজ চূড়ান্ত দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরান ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অন্তত ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ সমবেত হতে পারেন বলে তারা ধারণা করছেন।
এর আগে গতকাল বুধবার ইরাকের দুই পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় খামেনেইয়ের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে। ইরাকের আধাসামরিক বাহিনী ‘হাশদ আল-শাবির’ তথ্য অনুযায়ী, কারবালার শোকমিছিলে ৪০ লাখ এবং নাজাফে ইমাম আলীর (আ.) মাজার প্রাঙ্গণে ৩৮ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। এই বিশাল জনসমাগমের কারণে ইরাক সরকার দেশটিতে বিশেষ সরকারি ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছিল।
নাজাফ থেকে কারবালার বিখ্যাত ‘আরবাইন সড়ক’ দিয়ে খামেনি এবং তার সঙ্গে নিহত পরিবারের সদস্যদের মরদেহ যখন বহন করা হচ্ছিল, তখন পুরো রাস্তা শোকার্ত মানুষের কান্নায় ভেঙে পড়ে। ইরাকি কর্মকর্তা ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতারা এই ঐতিহাসিক জমায়েতকে মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শিয়া বিশ্বের একতা এবং তীব্র প্রতিরোধের এক স্পষ্ট বার্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ২০০৩ সালের পর থেকে ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হওয়া ইরান ও ইরাকের এই গভীর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বন্ধন খামেনির বিদায়যাত্রায় আরও একবার প্রমাণিত হলো।