Print

সারাদিন

সেশনজট দূর ও সময়োপযোগী পাঠ্যক্রমে জোর দিচ্ছে সরকার : শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত: ৮:৪০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের জনমিতিক সুবিধা (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) পুরোপুরি কাজে লাগাতে সরকার সেশনজট দূরীকরণ, পাঠ্যক্রম সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ে শিক্ষা সম্পন্ন নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আজ শনিবার (১১ জুলাই) সাভারে ‘গণ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সিলেবাস ও পাঠ্যক্রম প্রণয়নের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কমিটি সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে আধুনিক, যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা যায়। তিনি বলেন, দুই বছরের কোর্স দুই বছরেই শেষ হতে হবে। একইভাবে, ছয় বছর বয়সে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া একজন শিক্ষার্থী যেন ১৮ বছর বয়সের মধ্যে ১২ বছরের শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর শেষ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘কোনো ধরনের সেশনজট থাকবে না। আমাদের সন্তানদের মূল্যবান সময় অকারণে নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ, দেশের জনমিতিক সুবিধা যাতে পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়, সে লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

অতীতের কিছু উদাহরণ তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে সরকারি কর্মকর্তারা খিচুড়ি রান্না শেখা কিংবা কচুরিপানা পরিষ্কার করার মতো বিষয়ে বিদেশ সফরে যেতেন। সেই সময় এখন আর নেই। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষা ব্যবস্থার চারটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং আনন্দময় শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা প্রধান উপদেষ্টারও বিশেষ অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী এমন একটি নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে চান, যারা শিক্ষাকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করবে,’ বলেন তিনি।

ড. মিলন জানান, চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে আনন্দময় শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, পারিবারিক মূল্যবোধ, ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা পাঠ্যসূচিতে সংযোজন করা হবে। তিনি বলেন, পাঠ্যবইয়ে নিরপেক্ষ ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং চলতি বছরের পাঠ্যবইয়ে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংশোধন আনা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পাঠ্যক্রম পরিবর্তন একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। তাই পরিকল্পিতভাবে আমরা আধুনিক ও সময়োপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’

Nagad
Nagad

শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপরও সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন পদ্ধতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্যের প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বৃত্তি কর্মসূচিতে এবার থেকে ২০ শতাংশ বৃত্তি বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। অতীতে এ ধরনের ব্যবস্থা ছিল না। তিনি বলেন, শিক্ষা সবার মৌলিক অধিকার এবং সরকার সেই অধিকার নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সেসব এলাকার পরীক্ষা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরীক্ষার নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।

এর আগে ‘গণ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য মো. তমিজ উদ্দিন, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সূত্র: বাসস।