প্রকাশিত: ৬:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের ঘটনায় এই রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
সোমবার (১৩ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর কে. এম. রাকিবুল হুদা আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১২ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। তদন্তে হরিদাস চন্দ্রের বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের অর্থ জমা ও প্রায় সমপরিমাণ অর্থ উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।
সিআইডির আবেদনে বলা হয়, এসব অর্থের উৎস, কারা অর্থ জমা দিয়েছেন এবং সম্ভাব্য অর্থপাচার চক্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা শনাক্ত করতে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। একই সঙ্গে জামিন পেলে তদন্ত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথাও আদালতকে জানানো হয়।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে হরিদাস চন্দ্রের বৈধ আয়ের কোনো উৎস পাওয়া যায়নি। তবে তার বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনকভাবে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার লেনদেনের তথ্য মিলেছে। বিষয়টি তদন্ত করে অর্থের উৎস ও সংশ্লিষ্টদের শনাক্তে কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছর গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস। পরে প্রকল্পটি স্থগিত করা হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে তদন্ত চলছে।