Print

সারাদিন

জেড ক্যাটাগরিতেই ডিএস৩০-এ পাওয়ার গ্রিড, উঠছে নানা প্রশ্ন

প্রকাশিত: ১০:০৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্লু-চিপ সূচক ডিএস৩০-এর সর্বশেষ পুনর্বিন্যাসে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। টানা তিন বছর লোকসানে থাকা এবং লভ্যাংশ দিতে না পারায় বর্তমানে জেড ক্যাটাগরিতে থাকা কোম্পানিটি কীভাবে দেশের শীর্ষ ৩০ কোম্পানির সূচকে জায়গা পেল—এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা।

ডিএসইর প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, আগামী ১৯ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন ডিএস৩০ সূচকে পাওয়ার গ্রিডের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস (বিএসআরএম) এবং দ্য একমি ল্যাবরেটরিজ। অন্যদিকে সূচক থেকে বাদ পড়েছে কোহিনূর কেমিক্যাল (বাংলাদেশ), ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস এবং লিন্ডে বাংলাদেশ।

টানা তিন বছর লোকসান

কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে নিট লোকসান ছিল ৬২৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কমে ৬১০ কোটি ৯১ লাখ টাকা হয়। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লোকসান আরও কমে দাঁড়ায় ২১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

তবে লোকসানের মধ্যেও কোম্পানির ব্যবসায়িক পরিধি বেড়েছে। গত তিন বছরে রাজস্ব প্রায় ২ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা হয়েছে। একই সময়ে মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ১১৬ টাকা ১৪ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩৯ টাকা ২৯ পয়সা হয়েছে।

বর্তমানে কোম্পানিটির বাজার মূলধন প্রায় ৩ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা এবং ফ্রি-ফ্লোট বাজার মূলধন প্রায় ৭১৩ কোটি টাকা। যদিও ২০২০ ও ২০২১ অর্থবছরে ২০ শতাংশ এবং ২০২২ ও ২০২৩ অর্থবছরে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে লভ্যাংশ দিতে না পারায় কোম্পানিটি জেড ক্যাটাগরিতে নেমে আসে।

Nagad
Nagad

চলতি অর্থবছরে মুনাফায় ফেরার ইঙ্গিত

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকেই কোম্পানিটি আবার মুনাফায় ফিরেছে। প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৩ টাকা ৯৮ পয়সা, দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে ৫ টাকা ২২ পয়সা এবং তৃতীয় প্রান্তিকে বেড়ে ৬ টাকা ২৪ পয়সা হয়েছে।

একই সময়ে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিএসইর মতে, আয় বৃদ্ধি, ব্যয় হ্রাস এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ আদায় বাড়ায় কোম্পানির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এই ইতিবাচক পরিবর্তনের ভিত্তিতেই ডিএস৩০ সূচকে অন্তর্ভুক্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ডিএসই: ক্যাটাগরি নয়, মানদণ্ডই বিবেচ্য

ডিএসইর উপমহাব্যবস্থাপক ও মুখপাত্র শফিকুর রহমান বলেন, ডিএস৩০ সূচকে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কোম্পানির ক্যাটাগরি নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সূচক নির্ধারণের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। তার ভাষায়, ‘ডিএস৩০ সূচকে অন্তর্ভুক্তির জন্য যেসব ক্রাইটেরিয়া রয়েছে, পাওয়ার গ্রিড সেগুলো পূরণ করেছে। সর্বশেষ তিন প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল ইতিবাচক ছিল। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ক্যাটাগরি কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়।’

ডিএসইর সূচক নীতিমালা অনুযায়ী, ডিএস৩০-এ অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ফ্রি-ফ্লোট বাজার মূলধন, শেয়ারের তারল্য, নিয়মিত লেনদেন, সর্বশেষ ১২ মাসের ইতিবাচক আর্থিক ফলাফল এবং খাতভিত্তিক ভারসাম্য বিবেচনা করা হয়।

ডিবিএ: লভ্যাংশ না দেওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, পাওয়ার গ্রিড ঐতিহাসিকভাবে একটি শক্তিশালী কোম্পানি হলেও টাকার অবমূল্যায়নসহ বিভিন্ন কারণে লোকসানে পড়ে জেড ক্যাটাগরিতে চলে যায়। তিনি বলেন, ‘ডিএস৩০-এ অন্তর্ভুক্ত হলেও লভ্যাংশ বিতরণ শুরু না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানিটিকে পুরোপুরি মৌলভিত্তিসম্পন্ন বা শক্তিশালী কোম্পানি বলা কঠিন। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়, সেটি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ড. আল-আমিন বলেন, সাধারণভাবে ব্লু-চিপ সূচকে জেড ক্যাটাগরির কোম্পানি থাকার কথা নয়। তার মতে, ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের কথা বলা হলে সেটি সব ক্ষেত্রেই সমানভাবে অনুসরণ করতে হবে। ধারাবাহিকভাবে লভ্যাংশ দিতে না পারা একটি কোম্পানিকে ব্লু-চিপ সূচকে অন্তর্ভুক্ত করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এ বিষয়ে ডিএসইর আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।’