প্রকাশিত: ১২:১৪ অপরাহন, জুলই ১৭, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। টানা ষষ্ঠ রাতের অভিযানে দেশটির বিভিন্ন শহরে হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। হামলায় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা অবকাঠামো, সামরিক রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে সর্বশেষ বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মোতায়েন থাকা ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, টানা ষষ্ঠ রাতের হামলায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন শহর এবং পাঁচটি সেতু লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
খবরে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসের একটি আবাসিক এলাকায় হামলায় একজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। এছাড়া হরমোজগান প্রদেশের বান্দার খামিরের কাছে দুটি সেতুতে পৃথক হামলায় সাতজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন।
এদিকে কেশম দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলে চারটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, হরমোজগান প্রদেশের সিরিক এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
হামলায় বান্দার আব্বাস-শিরাজ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
এ ছাড়া বান্দার আব্বাসের পশ্চিমে তিনটি এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বুশেহরে দুটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বান্দার আব্বাসে হামলার লক্ষ্যবস্তু একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ফার্স নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন হামলায় মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে গারিভেহ ও কাহুরেস্তান সেতুও রয়েছে। এসব সেতু ইরানের সামরিক চলাচল ও অভ্যন্তরীণ রসদ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।