প্রকাশিত: ৪:২৮ অপরাহন, জুলই ১৭, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১৮তম প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। আগামী ২৩ জুলাই অপরাহ্ন থেকে ভাইস অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি পেয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। ২০২৯ সালের ২২ জুলাই পর্যন্ত তিন বছরের জন্য তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।
বর্তমান নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেন। রয়েল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৮৯ সালের ১ জুলাই এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি ৮৭-এ ব্যাচে মেধা ও জ্যেষ্ঠতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন।
তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি অর্জন করেছেন। এছাড়া এমফিলের পাশাপাশি স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ, ডিফেন্স স্টাডিজ এবং অপারেশনাল স্টাডিজ বিষয়ে দেশ-বিদেশ থেকে তিনটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সের কৃতি গ্র্যাজুয়েট।
শিক্ষাজীবনেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় স্থান অর্জনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।
প্রায় চার দশকের কর্মজীবনে তিনি নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও স্টাফ দায়িত্ব পালন করেছেন। কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল (কমচিট), কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল (কমঢাকা), কমান্ডার সাবমেরিন (কমসাব) এবং বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া নৌবাহিনী সদর দপ্তরে পরিচালক (নৌ অপারেশনস) ও পরিচালক (নৌ পরিকল্পনা) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বানৌজা ওমর ফারুক, বানৌজা এস আর আমিন, বানৌজা নির্ভয়, বানৌজা সৈকত এবং নৌঘাঁটি বানৌজা তিতুমীরের অধিনায়ক ছিলেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি, ডিএসসিএসসি ও ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
আন্তর্জাতিক দায়িত্ব
রিয়ার অ্যাডমিরাল মিসবাহ উল আজীম লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় বাংলাদেশ-ওমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
কর্মজীবনে তিনি নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ শান্তিকালীন সম্মাননা ‘নৌবাহিনী পদক (এনবিপি)’, ‘নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি)’, জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার এবং জাতীয় স্কাউট পুরস্কার (রৌপ্য ইলিশ পদক) অর্জন করেছেন।
এছাড়া তিনবার নৌবাহিনী প্রধানের প্রশংসাসূচক ইনসিগনিয়া লাভ করেন। তিনি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন পুরস্কার, সেরা ব্যক্তিগত গবেষণাপত্র পুরস্কার এবং এন্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার প্রশিক্ষণে সেরা শিক্ষার্থী হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছেন।
সামরিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি একজন লেখক ও গবেষক। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং নৌ-কৌশল বিষয়ক বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তার গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বেগম নুরতাজ আজীমের সঙ্গে বিবাহিত। তাদের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে।