Print

সারাদিন

১০ টাকার খাজনার রশিদে ২০ হাজার টাকা ঘুষের অভিযোগ, তহশিলদারের বিরুদ্ধে তদন্ত

প্রকাশিত: ৮:২৩ অপরাহন, জুলই ২০, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার লিটন দেওয়ানের বিরুদ্ধে মাত্র ১০ টাকার ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের সরকারি রশিদ দিতে ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে ওই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।

অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার বাসিন্দা আজিজুল হক গত ১৪ জুলাই জমির নতুন অর্থবছরের ভূমি উন্নয়ন করের রশিদ সংগ্রহ করতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান। তিনি দাবি করেন, রশিদ দিতে তহশিলদার বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে একপর্যায়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে রশিদ দেওয়া হবে না বলে জানান।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, পরে বাধ্য হয়ে তহশিলদারের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি বিকাশ নম্বরে ২০ হাজার টাকা পাঠান তিনি। টাকা দেওয়ার পর যে সরকারি রশিদ দেওয়া হয়, সেখানে ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ফি উল্লেখ ছিল মাত্র ১০ টাকা।

আজিজুল হক অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত অর্থ ফেরত চাইলে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি ‘কোনো টাকা নেওয়া হয়নি’—এমন বক্তব্য দিতে বাধ্য করে ভিডিও ধারণ করা হয়।

পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ঘেরাও করেন। জনরোষের মুখে অভিযুক্ত তহশিলদার ২০ হাজার টাকা ফেরত দেন বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত তহশিলদার দীর্ঘদিন ধরে ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার নামে সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে আসছেন। একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।

Nagad
Nagad

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে একাধিকবার চেষ্টা করেও তহশিলদার লিটন দেওয়ানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি কার্যালয় ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির ভিডিও দেখেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। এখনো লিখিত অভিযোগ না পেলেও ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট তহশিলদারকে তলব করে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা মিললে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে সরকারি সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হন। সূত্র: আরটিভি