প্রকাশিত: ১:৪২ অপরাহন, জুলই ২১, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের নিয়ে নৈশভোজে মিলিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সৌহার্দ্যপূর্ণ এ আয়োজনে শুধু শুভেচ্ছা বিনিময়ই নয়, বরং শরিকদের প্রত্যাশা, হতাশা, রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ সমন্বয়ের বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের ব্যস্ততার কারণে এতদিন শরিকদের সঙ্গে বসা সম্ভব হয়নি। তবে এখন থেকে নিয়মিত বৈঠক হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মজা করে প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, ‘আজকে আমাদের ফেয়ারওয়েল ডিনার কি না?’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই না, এটা ওয়েলকাম ডিনার। এখন থেকে নিয়মিত বসা হবে।’
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শরিক নেতাদের সঙ্গে টেবিল ঘুরে কুশল বিনিময় করেন এবং পরে সবার সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নৈশভোজে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শরিকদের পক্ষে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম।
অনুষ্ঠান সূত্র জানায়, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, দেশের সামনে কার্যকর রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে শরিকদের অনেকে রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও সম্পৃক্ত হওয়ার প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন।
আলোচনায় ইসলামি ধারার কয়েকটি দলের নেতারা অভিযোগ করেন, মন্ত্রিসভায় তাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়নি। এতে নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
গণঅধিকার পরিষদের নেতারা তৃণমূলে বিএনপির একক আধিপত্য, যুগপৎ আন্দোলনের বাস্তবতা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং শরিকদের যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দেন বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান।
গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনের কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মহাসচিব আব্দুল মতিন সউদ জানান, প্রধানমন্ত্রী দুই থেকে তিন মাস পরপর শরিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে নৈশভোজে ৪১টি রাজনৈতিক দলের ১৮৪ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। তবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও জমিয়তে ইসলাম অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা যুগপৎ আন্দোলনে প্রায় অর্ধশত রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারপ্রধান হিসেবে শরিক দলগুলোর নেতাদের নিয়ে বৈঠক ও নৈশভোজের আয়োজন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।