Print

সারাদিন

কমিশন বাড়ানোর দাবিতে ৩০ জুলাই দেশজুড়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের ঘোষণা

প্রকাশিত: ৮:০১ অপরাহন, জুলই ২১, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) বিক্রিতে কমিশন বাড়ানোর দাবিতে আগামী ৩০ জুলাই সারা দেশে একদিনের জন্য সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, আগামী ৩০ জুলাই ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকবে। এ সময়ের মধ্যে সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে দাবি পূরণ না হলে ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হবে।

সংগঠনের নেতারা জানান, ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে ৮ টাকা কমিশন নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু গত ১১ বছরে মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকের মজুরি, যন্ত্রাংশের দাম, ব্যাংক কমিশন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) ইজারা ফি এবং বিভিন্ন সরকারি লাইসেন্স ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান কমিশনে ফিলিং স্টেশন পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তাদের দাবি, প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণ করতে হবে। অর্থাৎ বর্তমান কমিশনের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ টাকা ৯৬ পয়সা যুক্ত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, তারা অতিরিক্ত মুনাফা নয়, পরিচালন ব্যয় ও সরকারি সুপারিশ বিবেচনায় যৌক্তিক কমিশন দাবি করছেন। তিনি জানান, ২০১৭ সালে গঠিত একটি সরকারি কমিটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের জন্য প্রতি ঘনমিটারে অতিরিক্ত ১ টাকা ৯৮ পয়সা মার্জিনের সুপারিশ করেছিল। পরবর্তী সময়ে মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকের মজুরি, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও অন্যান্য ব্যয় যোগ করে বর্তমান কমিশনের দাবি নির্ধারণ করা হয়েছে।

Nagad
Nagad

সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ভবিষ্যতে গ্যাসের দাম বাড়লে কমিশনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পুরোনো গ্রাহকদের কাছ থেকে নতুন করে জামানত আদায় বন্ধ এবং সওজের ইজারা ফি ও বিভিন্ন সরকারি লাইসেন্স ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের অভিযোগ, এসব দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও মেলেনি। এ পরিস্থিতিতে ১৮ জুলাই জরুরি সাধারণ সভায় ১২ সদস্যের একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্তসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।