প্রকাশিত: ১১:২৮ পূর্বাহ্, জুলই ২২, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের জব্দ করা ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে ‘সাদা স্বর্ণ’ (হোয়াইট গোল্ড) হিসেবে চিহ্নিত কিছু অলংকারসহ বিপুল পরিমাণ মূল্যবান সামগ্রী পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে এসব অলংকার প্রকৃতপক্ষে হোয়াইট গোল্ড বা স্বর্ণ কি না, তা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আদালতের নির্দেশে রাজধানীর পূর্বাচলের জলসিঁড়ি আবাসিক প্রকল্পের ‘জয়িতা’ ভবনের ৮ম ও ৯ম তলার ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে সম্পদের তালিকা (ইনভেন্টরি) প্রস্তুতের কাজ করছে দুদক। উদ্ধার করা মূল্যবান অলংকার আপাতত বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, ফ্ল্যাটটিতে দামি আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক পণ্য, পোশাক, অলংকার, শোপিস এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পাওয়া গেছে। তবে ইনভেন্টরির কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সামগ্রীর সংখ্যা, মূল্য বা প্রকৃতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাতে রাজি হয়নি সংস্থাটি।
মঙ্গলবার দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ জানান, সংস্থার কর্মকর্তারা জিয়াউল আহসানের ব্যবহৃত ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে থাকা সব সম্পদের তালিকা তৈরির কাজ করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সোনা ও হোয়াইট গোল্ড হিসেবে চিহ্নিত কিছু অলংকার পাওয়া গেছে। তবে সেগুলো প্রকৃতপক্ষে মূল্যবান ধাতু কি না, তা বিশেষজ্ঞের পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। যাচাই শেষ হওয়ার আগে সেগুলোকে মূল্যবান ধাতু হিসেবে চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে না।
দুদক জানায়, আদালতের আদেশে জব্দ করা সম্পত্তিতে থাকা প্রতিটি সামগ্রীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করাই এই ইনভেন্টরির উদ্দেশ্য। পরে যাচাই-বাছাই শেষে সম্পদের প্রকৃতি, পরিমাণ ও মূল্য নির্ধারণ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
উল্লেখ্য, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এর আগে ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল আদালত তার প্রায় ১৮ কোটি টাকার জমি, বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রোক এবং নয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।