প্রকাশিত: ৬:৫২ অপরাহন, জুলই ২২, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
দীর্ঘদিন ধরে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে বিলম্ব, বারবার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জবাবদিহির ঘাটতির বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও গতি আনতে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে চারটি বড় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেকের সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়হীনতা, দুর্বল জবাবদিহি এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেক উন্নয়ন প্রকল্পে অস্বাভাবিক বিলম্ব হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেগা প্রকল্পগুলোর ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ব্যয় বাড়ার প্রধান কারণ ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি। এছাড়া ভ্যাট-কর সমন্বয়, নতুন উপাদান সংযোজন এবং ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরের অতিরিক্ত ব্যয়ও প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে চারটি সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য কৌশলগত (স্ট্র্যাটেজিক) ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করা, প্রকল্প পর্যবেক্ষণে রিয়েল-টাইম ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালু, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের নতুন নীতিমালা প্রণয়ন এবং চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোকে সরকারের পাঁচ বছরের পরিকল্পনা ও নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্মূল্যায়ন।
তিনি আরও জানান, পরিকল্পনা বিভাগ, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), আইসিটি বিভাগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল সেবাগুলোকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়বে।
সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে জোনায়েদ সাকি বলেন, কবরস্থান, শ্মশান, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা, গুরুদুয়ারা ও ঈদগাহ উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন চাহিদা যুক্ত হওয়ায় মোট ব্যয় বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। সংশোধিত প্রস্তাবে অতিরিক্ত ৩৬৮ কোটি টাকা যোগ করা হয়েছে।
খুলনার রূপসা এলাকার দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি জানান, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব, ব্যয় নির্ধারণ, রেট শিডিউল এবং জবাবদিহির বিষয়গুলোতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।