প্রকাশিত: ১০:৪০ পূর্বাহ্, জুলই ২৩, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংকটের প্রভাবে ইউরিয়া সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ মারাত্মক খাদ্য উৎপাদন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। সংস্থাটির মতে, সার সরবরাহে বিঘ্ন দীর্ঘায়িত হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা গুরুতর হুমকির মুখে পড়বে।
ডব্লিউএফপির নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ তার মোট ইউরিয়া সারের প্রায় ৮০ শতাংশ সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে আমদানি করে। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ ইউরিয়া মজুত রয়েছে, তা দিয়ে অক্টোবর পর্যন্ত চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হলেও এরপর সরবরাহ সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়ার দাম ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে গ্যাস সংকটের কারণে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচটি ইউরিয়া কারখানার মধ্যে তিনটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ডব্লিউএফপির আশঙ্কা, চলমান সংকট অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হতে পারেন।
এদিকে, লোহিত সাগরে সৌদি আরবগামী দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি (আনসার আল্লাহ)। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, এনসেলিয়া (ENCELIA) ও লায়লা (LAYLA) নামের দুটি জাহাজে ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সারবাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন, খাদ্য সরবরাহ এবং মূল্যস্ফীতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।