প্রকাশিত: ৮:৪৩ অপরাহন, জুলই ২৩, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি হিসেবে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটি বলছে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর উচ্চ নির্ভরশীলতার কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ বিঘ্নে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাত চাপে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত ‘ইলেকট্রিসিটি মিড-ইয়ার আপডেট ২০২৬’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো উদীয়মান অর্থনীতিগুলো এলএনজি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় এসব দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি সাশ্রয়ের ব্যবস্থা নেওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবহারও কমে এসেছে।
আইইএ বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে কয়েক মাস ধরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চলছে। এর ফলে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে এবং চলতি বছরও বিদ্যুতের চাহিদা চাপের মধ্যে থাকতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহনে বিঘ্নের কারণে এশিয়া ও ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ২০২২-২৩ সালের জ্বালানি সংকটের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বেড়েছে এবং কয়েকটি দেশকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জরুরি পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।
তবে উত্তর আমেরিকা থেকে অতিরিক্ত এলএনজি সরবরাহ বাজারের চাপ কিছুটা কমিয়েছে। এরপরও গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে এশিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ আবার বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার বাড়িয়েছে।
আইইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিশ্বে বিদ্যুতের চাহিদা ২০২৬ সালে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়বে। শিল্প উৎপাদন, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের চাহিদা এবং ডেটা সেন্টারের সম্প্রসারণ এ প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসে পরিণত হবে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত বাড়তে থাকায় এটি জলবিদ্যুতের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎসে উন্নীত হবে।
তবে আইইএ সতর্ক করে বলেছে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো এলএনজি-নির্ভর দেশগুলোতে জ্বালানির উচ্চমূল্য ও সরবরাহ-সংকটের কারণে বিদ্যুৎ খাতের ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।