প্রকাশিত: ৯:২৭ অপরাহন, জুলই ২৩, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
২০২৬ বিশ্বকাপে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা আর্জেন্টিনাকে ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে একটি অনলাইন পিটিশনে ২ কোটির বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। মাত্র কয়েক সপ্তাহে এই পিটিশনে ২ কোটি ৩৩ লাখের বেশি ডিজিটাল স্বাক্ষর জমা পড়েছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্বাক্ষর পাওয়া পিটিশনের রেকর্ড ছোঁয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
ইউরোপের একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ‘Argentina Out’ শিরোনামের ওই পিটিশনে বিশ্বের প্রায় ১৭০টি দেশের মোট ২ কোটি ৩৩ লাখ ১৬ হাজার ১০৮ জন স্বাক্ষর করেছেন। শুরুতে আয়োজকদের লক্ষ্য ছিল ৫০ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করা। তবে বিশ্বকাপজুড়ে একের পর এক বিতর্কের কারণে পিটিশনটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্বাক্ষর পাওয়া পিটিশন হলো জুবিলি ২০০০ আন্দোলনের আবেদন, যেখানে স্বাক্ষর করেছিলেন ২ কোটি ৪৩ লাখ ১৯ হাজার ১৮১ জন। অর্থাৎ, আরও প্রায় ১০ লাখ স্বাক্ষর পেলেই নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়তে পারত আর্জেন্টিনাবিরোধী এই পিটিশন।
বিশ্বকাপ চলাকালে রেফারিং নিয়ে অভিযোগ থেকেই এই পিটিশনের সূচনা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সমর্থক ও বিশ্লেষক অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ম্যাচে আর্জেন্টিনা রেফারিদের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা পেয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পিটিশনে দাবি করা হয়, যদি আগে থেকেই বিজয়ী নির্ধারিত থাকে, তাহলে অন্য দলগুলোর বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অর্থ কী।
ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারের পর বিতর্ক আরও তীব্র হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়ের আচরণ নতুন করে সমালোচনার জন্ম দেয়। পাশাপাশি ম্যাচ চলাকালে স্পেনের ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির ওপর বিপজ্জনক ট্যাকলের দায়ে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখেন। এসব ঘটনার পর পিটিশনে স্বাক্ষরের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।
পরে ফাইনাল শেষ হওয়ার পর পিটিশনের উদ্যোক্তারা আবেদনটি বন্ধ করে দেন। সমাপনী বার্তায় তারা লেখেন, “ফিফা আমাদের কথা শোনেনি। কিন্তু স্পেন তাদের প্রতিশ্রুতি রেখেছে। ধন্যবাদ, স্পেন।”
তবে এই পিটিশনের কোনো আইনি বা সাংগঠনিক বাধ্যবাধকতা নেই। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ফিফা কোনো ধরনের পদক্ষেপ বা আনুষ্ঠানিক মন্তব্যও করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা না থাকলেও এত অল্প সময়ে ২ কোটির বেশি মানুষের সমর্থন পাওয়া বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে বিরল একটি ঘটনা।