প্রকাশিত: ১১:০০ পূর্বাহ্, জুলই ২৪, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থানরত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে দেশে ফিরছেন। একই দিনে বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন বলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিদায়-সংক্রান্ত প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
স্পিকারের আগাম দেশে ফেরাকে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলেই দেখছেন অনেকেই। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দেন। আর নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার।
এর আগে বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে ওই বৈঠকের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে ধারাবাহিক এসব ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিনভর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা হয়। বিএনপির নেতাদের মধ্যেও এ বিষয়ে নানা ধরনের আলোচনা চলেছে।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সে হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে। তবে রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগের বিষয়ে মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং স্পিকার দেশে ফেরার পরই পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন।
নতুন রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন?
রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানের নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা একজন জ্যেষ্ঠ সচিব, একজন সাবেক সচিব এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহমেদের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গন।