Print

সারাদিন

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে সর্বাত্মক নীতিগত সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

প্রকাশিত: ১২:২০ অপরাহন, জুলই ২৫, ২০২৬

তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিবেদক:

তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই বাংলাদেশের জন্য পরবর্তী সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক গন্তব্য হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, কর সুবিধা এবং অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ কাজ করছে।

আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নভো থিয়েটারে দুই দিনব্যাপী এই সামিট শুরু হয়েছে।একটি দ্বিমাত্রিক সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সামিটে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের প্রসারে সরকার ইতিমধ্যেই ব্যবসায়বান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ শুরু করেছে। এ শিল্পের বিকাশে বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন, কর সুবিধা প্রদান, বন্ডেড সুবিধা নিশ্চিত করা এবং বিশেষায়িত অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া, দেশে বিদ্যমান হাই-টেক পার্কগুলোকে আধুনিকায়নের পাশাপাশি একটি নতুন বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তারা সম্প্রতি মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে রোড শো আয়োজন করেছেন তাদের অভিনন্দন জানিযে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে দেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরার উদ্যোগকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও আশাব্যঞ্জক।

দেশের এই সম্ভাবনাময় খাতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ল্যাব ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, দক্ষতার ক্ষেত্রভিত্তিক ঘাটতি, বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা এবং বৈশ্বিক বাজারের কঠিন প্রতিযোগিতা রয়েছে তবে এসব চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছা বাংলাদেশের রয়েছে।

Nagad
Nagad

সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উদ্যোক্তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে বর্তমান সরকার পাশে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি, তৈরি পোশাক, প্রবাসী আয় এবং ডিজিটাল সেবায় বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে। তরুণ ও উদ্যমী জনশক্তি এবং উদ্ভাবনী শক্তির ওপর ভর করে এবার সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প খাত, প্রবাসী পেশাজীবী এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার বিনীত আহ্বান জানানো হয়।

দুই দিনব্যাপী এই সামিট থেকে নতুন অংশীদারিত্ব, গবেষণা উদ্যোগ, বিনিয়োগের সুযোগ এবং উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটবে, যা দেশের প্রযুক্তি খাতকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর শিল্প সমিতি এবং সিলিকন রিভার যৌথভাবে প্রযুক্তিনির্ভর এই আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে।

আয়োজকদের মতে, এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হবে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের ভিত্তি তৈরি করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জীবপ্রযুক্তি, রোবোটিকস, গবেষণার বাণিজ্যিকীকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি অংশীদারত্বের সুযোগ অনুসন্ধান করা।

দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের উন্নয়ন, বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেতৃত্ব, প্রযুক্তির সমন্বয়, উচ্চপ্রযুক্তির ভবিষ্যৎ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততা এবং উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা নিয়ে ১১টি মূল অধিবেশন ও সাতটি কৌশলগত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, আইসিটি বিভাগের উপদেষ্টা রেহান আসাদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব এম আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ জব্বার।

সম্মেলনের মূল কী-নোট উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক কৌশল প্রণয়ন উদ্যোগের আহ্বায়ক অধ্যাপক মুহাম্মদ মুস্তাফা হুসাইন।