প্রকাশিত: ৬:১৩ অপরাহন, জুলই ২৭, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। সংঘাত নিরসনের আশা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম ৯ শতাংশের বেশি কমেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৮ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। অথচ গত সপ্তাহেই এর দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছিল।
জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত টানা দ্বিতীয় রাতের মতো ইরানের ওপর হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এতে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য কিছুটা সুযোগ তৈরি হবে। এর পরদিন ইরানের সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্রও জানান, তেহরান আপাতত এ অঞ্চলে প্রতিশোধমূলক হামলা বন্ধ রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন হওয়ায় সংঘাতের প্রভাবে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।
এর আগে জুনে দুই দেশ সামরিক অভিযান স্থগিত ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছালে তেলের দাম যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে, অর্থাৎ ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলারে নেমে আসে। তবে চলতি মাসের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে সরবরাহ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয় এবং গত সপ্তাহে তেলের দাম আবার ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
এদিকে লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনাও জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এতে সৌদি আরবের বিকল্প রপ্তানি পথের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুসানাহ স্ট্রিটার বলেন, সংঘাতের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় বাজার এখনও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তার মতে, তেলের দাম কমলেও স্থায়ী সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দামের ওঠানামা শুধু জ্বালানি খাতেই নয়, পরিবহন ব্যয়, খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিতেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।