প্রকাশিত: ৬:৫১ অপরাহন, জুলই ২৯, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাহিদুল ইসলাম হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হককে আগামী ৩০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। তিনি শহীদুল হকের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করলে শুনানি শেষে তা মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট মেজর জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী জেবুন্নাহার ইসলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে তিনি দাবি করেন, তার স্বামীকে হত্যার পাশাপাশি তাকে ও তার দুই শিশুসন্তানকে চার মাস সাত দিন গুম করে রাখা হয়। এ ঘটনায় সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক ছাড়াও তৎকালীন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মনিরুল ইসলাম, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান আসাদুজ্জামান, তৎকালীন মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আহমেদ, রূপনগর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদ আলম এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করা হয়।
আবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে ও তার দুই সন্তানকে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জঙ্গি হিসেবে স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেওয়া হয় এবং স্বীকার না করলে স্বামীর মতো পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়। পরে তাকে জানানো হয়, তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর তাকে ও সন্তানদের দীর্ঘ সময় গোপন স্থানে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘ চার বছর কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরে আবার কারাগারে গেলেও ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পুনরায় জামিনে মুক্তি লাভ করেন।
উল্লেখ্য, মেজর জাহিদুল ইসলাম ২০০০ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন। প্রায় ১৬ বছর চাকরি শেষে ২০১৬ সালের ২৮ জুলাই স্বেচ্ছায় অবসর নেন। একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে পুলিশের কথিত জঙ্গিবিরোধী অভিযানে তিনি নিহত হন। তবে পরিবারের অভিযোগ, তাকে পরিকল্পিতভাবে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে।