Print

সারাদিন

দালাল-টেস্ট বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর, কঠোর নজরদারির ঘোষণা

প্রকাশিত: ৯:২১ অপরাহন, জুলই ২৯, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া, টেস্ট বাণিজ্য, কমিশনভিত্তিক রোগী রেফার এবং অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীতে ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয় দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেন্ট রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে পাশের বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করা, রোগীকে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে পাঠানো কিংবা কমিশনের ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করা হবে। এসব বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে।

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী সরিয়ে নেওয়া দালাল চক্রের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসেবাকে কোনোভাবেই বাণিজ্যে পরিণত হতে দেওয়া হবে না।

স্বাস্থ্য খাতে অনিয়মের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, সরকারি টেন্ডারে অনেক সময় এমন শর্ত দেওয়া হয়, যাতে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কেউ অংশ নিতে না পারে। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আগের সরকারের সময়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল ছাড়াই কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। ফলে অনেক যন্ত্রপাতি বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত গবেষণায় দেখা যায়, দেশের আট বিভাগের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় বাজেট বাস্তবায়নের হার ৮৫ শতাংশ। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে অর্থ অব্যয়িত থাকার পেছনে আর্থিক অনিয়মের চেয়ে বাজেট ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও প্রশাসনিক জটিলতাই বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

Nagad
Nagad

ডায়ালাইসিস সেবা নিয়ে মন্ত্রী জানান, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করা হবে না। সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিস সেবা পরিচালনা করবে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি রোগীরা কম খরচে সেবা পাবেন। প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যা এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে পরীক্ষামূলকভাবে ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকর্মীদের এআই-সমৃদ্ধ কিট, স্মার্টফোন ও সাইকেল দেওয়া হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, লিপিড প্রোফাইল, সিবিসিসহ বিভিন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন।

এ ছাড়া অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধে সিভিল সার্জন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে আকস্মিক পরিদর্শন আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি ছাড়া পরিচালিত বেশ কয়েকটি ক্লিনিক ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।