Print

সারাদিন

এনএসইউতে টিকটকের মাস্টারক্লাস, ডিজিটাল সাংবাদিকতায় প্রশিক্ষণ পেলেন শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ১:১৬ পূর্বাহ্, জুলই ৩১, ২০২৬

তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিবেদক:

ডিজিটাল সাংবাদিকতা, দায়িত্বশীল কনটেন্ট তৈরি এবং আধুনিক স্টোরিটেলিংয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)-তে দুই দিনের ‘টিকটক মাস্টারক্লাস অন জার্নালিজম অ্যান্ড ডিজিটাল স্টোরিটেলিং’ আয়োজন করেছে টিকটক। বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মশালায় অংশ নেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সাংবাদিকতা, তথ্যভিত্তিক ও জনসচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরি, স্টোরিটেলিং, তথ্য যাচাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং নৈতিক সাংবাদিকতার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা টিকটক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি একটি জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলের নিউজরুম পরিদর্শনের সুযোগও পান।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, টিকটকের সঙ্গে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং সাংবাদিকতা, গণমাধ্যম ও ডিজিটাল যোগাযোগে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে।

কর্মশালার প্রথম দিনে বক্তব্য দেন মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হারিসুর রহমান, স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন ড. মো. রিজওয়ানুল ইসলাম এবং উপাচার্য ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী।

এ সময় ‘ভবিষ্যতের সাংবাদিকতা কেমন হবে?’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ড. মো. হারিসুর রহমান, টিকটকের ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি লিড আসমা আনজুম, বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বির এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারান পারিহার। আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব, নির্ভরযোগ্য তথ্যের গুরুত্ব এবং ভবিষ্যতের সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক উঠে আসে।

ড. মো. হারিসুর রহমান বলেন, সাংবাদিকতার শিক্ষা এখন আর শুধু প্রচলিত রিপোর্টিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের গণমাধ্যম, যোগাযোগ ও তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট তৈরির জন্যও প্রস্তুত করা প্রয়োজন।

Nagad
Nagad

দ্বিতীয় দিনের কর্মশালায় নিউজরুম পরিচালনা, কনটেন্ট পরিকল্পনা, তথ্য যাচাই, সাংবাদিকতার নৈতিকতা এবং ডিজিটাল যুগে গণমাধ্যমের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেন যমুনা টেলিভিশনের গবেষক ও নর্দান ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মো. জাহিদ হোসেন খান।

এ ছাড়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাশিক মোহতাসিন (ম্যাজিক রাজিক) এবং সাবা চৌধুরী ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাণ, দর্শক তৈরি এবং ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

টিকটকের এপ্যাক ও মেটাপিএসইএ অঞ্চলের ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি অ্যান্ড টেক কমিউনিকেশন লিড ইমাদ জাফর বলেন, মানুষ এখন নতুন ধারণা জানতে, শিখতে এবং নতুন গল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে টিকটক ব্যবহার করছে। এ মাস্টারক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এমন দক্ষতা শেখানো হয়েছে, যাতে তারা নির্ভুলতা, তথ্য যাচাই, জবাবদিহি ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সৃজনশীল এবং দায়িত্বশীল শর্ট ভিডিও তৈরি করতে পারে।

কর্মশালার অংশ হিসেবে #GrowWithTikTok ও #NSU হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে ডিজিটাল স্টোরিটেলিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয় নিয়ে শর্ট ভিডিও তৈরি করেন। সেরা তিনটি কনটেন্টকে পুরস্কৃত করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনীতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরণ করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য ড. নাসার ইউ. আহমেদ। পরে বিজয়ীরা একটি জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলের নিউজরুম পরিদর্শন করে সংবাদ সংগ্রহ, প্রযোজনা ও উপস্থাপনার বাস্তব প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।