প্রকাশিত: ১০:৩৫ পূর্বাহ্, গাস্ট ২, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
দেশজুড়ে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা গ্যাস সংকট এখনো কাটেনি। ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনাল, স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বৃদ্ধির কারণে শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক খাতে সরবরাহ স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে এ সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অথচ দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, ফলে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির কারণে আমদানি কমে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। একই সময়ে দেশের স্থানীয় গ্যাস উৎপাদনও ধারাবাহিকভাবে কমছে। পেট্রোবাংলার হিসাবে, প্রতিবছর স্থানীয় উৎপাদন প্রায় ১৫ কোটি ঘনফুট কমে যাচ্ছে।
দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শেভরনের উৎপাদনও কমতির দিকে। চলতি বছরের মার্চের শুরুতে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক ৮১৫-৮২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হলেও জুলাইয়ের শেষ দিকে তা নেমে এসেছে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে এটি কবে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট সময় বলা সম্ভব নয়।
তিনি জানান, পুরোনো গ্যাসকূপ থেকেও প্রত্যাশিত উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
এদিকে বৈশ্বিক বাজারেও এলএনজির দাম বেড়েছে। জাপান-কোরিয়া মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ২১ দশমিক ৪৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ছিল ১০ দশমিক ৬০ ডলার। ফলে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি এখন অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
আরও চাপ তৈরি হয়েছে কাতার থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায়। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহকারী কাতার এনার্জির স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আগামী কয়েক বছর চুক্তির তুলনায় কম কার্গো আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, চলমান সংকট দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ঘাটতির ফল। তার মতে, স্বল্পমেয়াদে বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি আমদানি করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
সংকট মোকাবিলায় সরকার ১০০টি নতুন গ্যাসকূপ খনন, নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি ভোলার গ্যাস রাজধানী অঞ্চলে সরবরাহের জন্য ক্রায়োজেনিক আইএসও ট্যাংক ব্যবহারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ফলে শিল্প ও আবাসিক খাতের চলমান গ্যাস সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা আপাতত সীমিত। সূত্র: চ্যানেল ২৪