Print

সারাদিন

দুবাইয়ে জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহন, গাস্ট ২, ২০২৬

সারাদিন ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে কারাগার থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। গত ২৭ জুলাই আমিরাতের একটি আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তিনি কারামুক্ত হন।

রোববার (২ আগস্ট) বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, আদালতের দেওয়া জামিনের শর্ত অনুযায়ী বেনজীর আহমেদের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না।

তবে তার জামিন ও মুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্টারপোল শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে পুলিশ সদরদপ্তরের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত নথি এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত শর্তসাপেক্ষে তাকে জামিন দেন। তবে এ বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।

এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুবাই পুলিশের সহায়তায় এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় ওই অভিযান পরিচালিত হয়। গত ১২ জুন এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে দুবাই পুলিশ।

Nagad
Nagad

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচারসহ একাধিক অভিযোগে তদন্ত করছে দুদক। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে দেশে একাধিক মামলা হয়েছে এবং আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সেই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০২৪ সালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দুদক তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ ওঠার পর তিনি দেশ ত্যাগ করেন।