প্রকাশিত: ৫:১৫ অপরাহন, গাস্ট ৩, ২০২৬
সারাদিন ডেস্ক
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। গণতন্ত্রের জন্য জীবন উৎসর্গকারীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জুলাই আমাদের হৃদয়ের একটি অংশ। এ আন্দোলনে যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়েছেন এবং যারা আহত হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের কারণেই দেশের সামনে পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও জনগণের অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় দেশে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই আকাঙ্ক্ষাকে আরও শক্তিশালী করেছে। এখন বিভাজন ও সংঘাতের রাজনীতি পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে এবং সংসদে সংশ্লিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলোও আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া হবে।
গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সাংবাদিকরা গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। তাই সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য সমস্যার সমাধানে সরকার গুরুত্ব দেবে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত সাংবাদিকদের পরিবারের প্রতিও রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং মানুষের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাইয়ের শহীদসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের অবদান জাতি কখনো ভুলবে না। একটি কার্যকর সংসদের মাধ্যমে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা গেলেই তাদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে।